• ঢাকা |

আমার শিক্ষক, আমার গুরু: মানুষ গড়ার কারিগর


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

জনি সিদ্দিক

ভূমিকা:

শিক্ষক কেবল একটি নাম নয়, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি আলোকবর্তিকা। প্রতিটি মানুষের জীবনে তাঁর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, এক মহান ব্রত। তাঁরা জ্ঞান বিতরণ করেন, মূল্যবোধ শেখান এবং সর্বোপরি জীবন গঠনের পথ দেখিয়ে দেন। আমার শিক্ষা জীবনের পথচলা ছিল তিনটি ভিন্ন ধাপে। শুরুতে প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরপর স্বল্প সময়ের জন্য উচ্চ বিদ্যালয় এবং অবশেষে দীর্ঘ সময় মাদ্রাসার মায়াবি পরিবেশে। এই দীর্ঘ পথচলায় আমি অসংখ্য শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছি, যাঁরা প্রত্যেকেই আমার জীবনে ভিন্ন ভিন্ন রঙে ও রূপে ছাপ রেখে গেছেন। একজন আদর্শ শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতা নয়, জীবনের সঠিক দর্শনও শিখিয়ে থাকেন। যেহেতু আমি বেশ কয়েক জায়গায় শিক্ষা গ্রহণ করেছি তাই এককভাবে আমার কাছে প্রিয় শিক্ষক বলতে একক ব্যক্তিত্ব নেই । সবাই আমার প্রিয়, সবাই আমার গুরুজন, সবাই আমার সেরা শিক্ষক। নিম্নে আমি আমার শিক্ষাজীবনের বিস্তারিত আলোচনা করছি। 

 

1. প্রাথমিক পর্ব: সরলতা ও ভিত্তি স্থাপন (প্রথম ৫ বছর)

 

আমার শিক্ষাজীবনের শুরু হয় বড়াইগ্রাম থানার নগর ইউনিয়নের দ্বারিখৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রথম পাঁচ বছর কেটেছে এখানকার শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে। প্রাথমিক শিক্ষকের ভূমিকা শিশুর কাছে অনেকটা দ্বিতীয় অভিভাবকের মতো। তাঁরা অক্ষরজ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি হাতে ধরে নিয়ম-শৃঙ্খলা, পরিষ্কার পরিছন্নতা এবং সততার মতো মৌলিক মানবিক গুণগুলো শেখান।

স্মরণ আছে, আমার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন বেশ কয়েকজন। সরকারি চাকরি বিধায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘন ঘন শিক্ষক চেঞ্জ হতো । তবুও আমার এখনো মনে আছে বেশ কয়েকজন স্যারের নাম। বেশ কয়েকজন স্যারের স্মৃতি। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মরহুম আকরাম হোসেন, আব্দুল কাদের, আবুল হোসেন, প্রধান শিক্ষক মোজাহারুল ইসলাম (যিনি এখনো বেঁচে আছেন) প্রমুখ ব্যক্তিত্ব। আর অনেকের নামই ভুলে গেছি। তারা সবাই যেমন কড়া ছিলেন তেমনি অত্যন্ত মমতাময়ী ছিলেন। ব্ল্যাকবোর্ডে লিখতে গিয়ে যখন ভয়ে হাত কাঁপতো, তখন তাঁরা হেসে উৎসাহ দিতেন। তাদের ক্লাসে মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে খেলার ছলে শেখার আনন্দ বেশি ছিল। তাঁরা আমাদের শিখিয়েছিলেন, গাছ লাগালে যেমন ফল পাওয়া যায়, তেমনি মন দিয়ে পড়লে তার ফলও একদিন পাওয়া যাবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষকেরাই আমার জ্ঞানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দেন। তাদের সরলতা ও ধৈর্য দিয়ে আমাদের মনে পড়ার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়েছিলেন। তাঁদের স্নেহ ও মমতা ছিল প্রথম পাঠের অবিস্মরণীয় অংশ। যা আমি মৃত্যুর আগ অবধি ভুলতে পারব না।

 

2. উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষণস্থায়ী ছাপ (১ বছর)

 

প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষে আমি এক বছরের জন্য পাশেই দেউশিন হাই স্কুলে যাই। যদিও এই সময়টি খুব কম ছিল, তবুও এখানকার শিক্ষকেরা আমাকে নতুন এক জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহজ পাঠের পর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পড়ানোর ধরন ছিল আরও পদ্ধতিগত ও গভীর।

এখানে আমি একাধিক শিক্ষককে পেয়েছিলাম, যারা কঠিন বিষয়গুলোকে দারুণ মজার উদাহরণ দিয়ে বোঝাতেন। তাঁরা আমাদের শিখিয়েছিলেন যে, কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, চারপাশের প্রকৃতি থেকেও জ্ঞান আহরণ করতে হয়। এক বছর পর মাদ্রাসা শিক্ষা শুরু হলেও, উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেওয়া বৈজ্ঞানিক কৌতূহল এবং অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা আমার মনে চিরস্থায়ী হয়ে আছে। তাঁদের মধ্যে ছিল দূরদৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত করে তোলার এক দৃঢ় সংকল্প। এই অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখেছি শিক্ষা স্তরের দ্বিতীয় ধাপে এসে। সেই এক বছর অল্প সময়ের জন্য হলেও সকল স্যারদেরকেই এখনো মনে পড়ে। ছুটিতে বাড়ি গেলেই অনেকের সাথে দেখা হয় আবার অনেকেই পরপারের বাসিন্দা হয়েছেন।

 

3. মাদ্রাসার দীর্ঘ ছায়া: জ্ঞান, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ এর শিক্ষা (৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে কামিল/ এম. এ ডিগ্রি)

 

আমার শিক্ষা জীবনের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় মাদ্রাসায়, যা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আমার বিএ ডিগ্রি অর্জন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। প্রতিষ্ঠান ছিল বড়াইগ্রাম থানার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধানাইদহ ফাজিল মাদ্রাসা। একই প্রতিষ্ঠানে এত বছর পড়াশোনা করার সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষকদের সাথে আমার সম্পর্ক কেবল শিক্ষক-ছাত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা এক গভীর আধ্যাত্মিক ও মানসিক বন্ধনে পরিণত হয়েছিল। তবে শুধুমাত্র কামিল এর পড়াশোনা করেছি সিরাজগঞ্জ এর উল্লাপাড়া কামিল মাদ্রাসায়।

মাদ্রাসার শিক্ষকেরা আমার কাছে ছিলেন আদর্শের প্রতীক। তাঁরা শুধু ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা দেননি, বরং জীবনের প্রতি তাঁদের নিষ্ঠা, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং নৈতিকতা আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তাঁরা শিখিয়েছিলেন, জ্ঞান অর্জন করতে হয় আত্মশুদ্ধির জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, আর সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য। জ্ঞানকে নিজের বাস্তবিক জীবনে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষিত লোকদেরকে শিক্ষার মান অনুযায়ী চলাচল করতে হবে যেন আচার-আচরণে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত এক না হয়ে যায়। নিম্নে আমি কিছু বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের বর্ণনা তুলে ধরছি যাদের কথা না বললেই নয়। তবে উল্লেখ্য যে, মাদ্রাসায় শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষকই একাধিক বা ততোধিক সাবজেক্টের ক্লাস নিতেন।

 

বিশেষ শিক্ষকদের প্রভাব:

১. আরবি, কুরআন ও হাদিসের শিক্ষক:

আমাদের আরবি, আল-কোরআন ও হাদিস বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন বেশ কয়েকজন। কারণ শ্রেণী ভেদে একেকজন একেক ক্লাসের শিক্ষা দিতেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ছিলেন মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান ,অধ্যাপক মাওলানা আবু মুসা, মাওলানা আবদুল হাকিম, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা মোজাম্মেল হক, মাওলানা কামরুজ্জামান প্রমুখ শিক্ষকগণ ছিলেন আরবি ব্যাকরণ ও সাহিত্যের একেকজন অসাধারণ পণ্ডিত। তাদের অনেকের কণ্ঠস্বর ছিল গম্ভীর কিন্তু তাঁর ব্যাখ্যা ছিল ক্রিস্টাল-ক্লিয়ার। তাঁরা আমাদেরকে শুধু আরবি ভাষা শেখাননি, বরং আরবি সাহিত্যের বিশালতা এবং এর মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বোঝার পথ খুলে দেন। তাদের শেখানো প্রতিটা শব্দে আমি গভীরতা খুঁজে পেতাম। তাঁরা মনে করিয়ে দিতেন, জ্ঞানের তৃষ্ণা যেন কখনোই না কমে। তাদের স্বচ্ছতা ও দৃঢ়তা আমাদের চিন্তাভাবনাকে সুসংগঠিত করতে সাহায্য করেছিল।

 

২. বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক:

এই মাদ্রাসাতে আমি দুইজন চমৎকার বাংলা সাহিত্যের শিক্ষককে পেয়েছিলাম। তাঁরা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আমাদেরকে বিভিন্ন সাহিত্যিক ও কবিদের বিশাল ভান্ডারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁরা দেখিয়েছিলেন, মানবতা আর আধ্যাত্মিকতা কেবল ধর্মীয় গ্রন্থে নয়, সাহিত্যের পাতায়ও উজ্জ্বলভাবে বিদ্যমান। তাদের উৎসাহেই আমার লেখালেখির প্রতি আগ্রহ জন্মায়। তাদের শিল্পবোধ ও সৃজনশীলতা আমাদের ভাবনার জগৎকে প্রসারিত করেছিল। উনাদের একজনের নাম ছিল প্রভাষক রজব হোসেন আর অপরজন ছিলেন প্রভাষক হাকিমুর রহমান। আমার এখনো কানে বাজে নানান রসে ভরা বাংলা কবিতা ও গদ্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ গুলো। রজব স্যার কত সুন্দরভাবে বাংলা কবিতার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উদাহরণ সহকারে করেছেন।

 

৩. নৈতিকতার মূর্ত প্রতীক অধ্যক্ষ:

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ।আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন কঠোর কিন্তু ন্যায়পরায়ণ। তাঁর ব্যক্তিত্বে ছিল এক প্রকার গাম্ভীর্য যা আমাদের ভেতরে শৃঙ্খলাবোধ ও দায়িত্বজ্ঞান তৈরি করত। তিনি বলতেন, "ভালো ছাত্র হওয়ার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া অনেক জরুরি। জীবনে সংগ্রামের পথে সৎ থাকা অনেক কঠিন কাজ।" তাঁর জীবনযাপন পদ্ধতি এবং সততা ছিল আমাদের জন্য খোলা বইয়ের মতো। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, জীবনে সফলতার চেয়ে নৈতিকভাবে উন্নত হওয়া বেশি সম্মানের। অবশ্য উনার রিটায়ার্ডের পরে আরো কয়েকজন অধ্যক্ষ পেয়েছিলাম। উনাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—মাওলানা মোজাম্মেল হক, মাওলানা আব্দুর রহমান ও মৌলানা আকমল হোসেন। উনারা সবাই একেকজন বিদগ্ধ পণ্ডিত ছিলেন। আরেকজনের কথা না বললেই নয়; যিনি ভাইস প্রিন্সিপাল ছিলেন মাওলানা নজরুল ইসলাম। অত্যন্ত সাদাসিধা মানুষ ছিলেন প্রিয় হুজুর। উনার শিক্ষা দেয়ার ভাব ভঙ্গিমাটা ছিল অসাধারণ মনোমুগ্ধকর।

 

৪. ইসলামের ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক: এছাড়াও সমাজবিজ্ঞান ও ইসলামের ইতিহাস ক্লাস নিতেন প্রভাষক হাকিমুর রহমান ও মাওলানা মোজাম্মেল হক। তারা উভয়েই ঘটনাবলির বিশ্লেষণ করার এক অসাধারণ ক্ষমতা রাখতেন। তাঁরা শুধু সন-তারিখ মুখস্থ করতে শেখাননি, বরং প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার পেছনের কারণ ও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতেন। তিনি আমাদের মধ্যে যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবার প্রেরণা জাগিয়েছিলেন। তাদের ক্লাসে আমরা শিখতাম, কেবল শোনা কথা নয়, প্রমাণ এবং যুক্তি দিয়েই যেকোনো সত্যকে যাচাই করতে হয়। তাঁরা আমাদের প্রশ্ন করতে শিখিয়েছেন, যা একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় গুণ।

 

৫. শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক:

এ বিষয়ে শিক্ষক ছিলেন জনাব আব্দুল ওয়াহেদ স্যার। তিনি আমাদের শেখাতেন—সুস্থ মন ও দেহ ছাড়া কোনো জ্ঞানই কাজে আসে না। তিনি সবসময় ছাত্রদের খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতে উৎসাহিত করতেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি সব ছাত্রের প্রতি সমান মনোযোগ দিতেন এবং ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে বন্ধুসুলভ পরামর্শ দিতেন। তাঁর সহানুভূতিশীল আচরণ ছাত্রদেরকে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করত।

 

৬. ইংরেজি ও গণিতের শিক্ষক:

ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষা দিতেন আমাদের সবার আনন্দের উৎস আজমল হোসেন স্যার। উনি একাধারে আরবি, বাংলা এবং ইংরেজি তিন ভাষায় পন্ডিত ছিলেন। যখন মাদ্রাসায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান হতো তখন তিনি তিন ভাষায় ধারা বর্ণনা দিয়ে সবার মন জয় করতেন। তবে তিনি পরবর্তীতে অন্যত্র একটি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। আর গণিত বিষয়ে ক্লাস নিতেন জনাব রফিকুল ইসলাম বিএসসি স্যার। উনার বোঝানোর সিস্টেম অনেক সুন্দর ছিল । এছাড়া তিনি বিজ্ঞান বিভাগেরও ক্লাস নিতেন। আমার কাছে বা আমাদের সবার কাছে তাঁরা ছিলেন একেকজন লিজেন্ড।

 

উপসংহার:

 

শুধুমাত্র উপরোক্ত শিক্ষকমন্ডলী নন; বরং উনাদের বাইরেও আরো অনেক শিক্ষক ছিলেন যাদের সবার নাম উল্লেখ করা এই মুহূর্তে সম্ভব না। তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধাবোধ, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি। আমার শিক্ষাজীবনের ভিন্ন ভিন্ন ধাপের শিক্ষকেরা প্রত্যেকেই আমার জীবনকে কোনো না কোনোভাবে আলোকিত করেছেন। তাঁরাই ছিলেন সত্যিকারের "মানুষ গড়ার কারিগর", যাঁরা শুধু একাডেমিক নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তুত করে তুলেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষকেরা দিয়েছেন শিক্ষার ভিত, উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দিয়েছেন অনুসন্ধিৎসা, আর মাদ্রাসার শিক্ষকেরা দিয়েছেন নৈতিকতা, গভীরতা এবং জীবনের সঠিক নির্দেশনা। তাঁরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে আমাদের মধ্যে আশার বীজ বুনেছেন এবং আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় করেছেন।

শিক্ষকেরা হলেন নীরব কারিগর, যাঁরা দিনের পর দিন পরিশ্রম করে একজন অসম্পূর্ণ মানুষকে পরিপূর্ণ করে তোলেন। আমি বিশ্বাস করি, আমার জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে আমার সকল শিক্ষকের অবদান রয়েছে। তাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও প্রেরণা জীবনের প্রতিটি বাঁকে আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। তাঁদের জ্ঞান, উপদেশ এবং আশীর্বাদই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আমি চিরকাল তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। তাঁরাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাথেয়। তাঁদের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। যারা জীবিত রয়েছেন আল্লাহ তাদের সবাইকে সুস্থ ও সহিসালামতে রাখুন। যারা কবরবাসী হয়েছেন তাদের সবাইকে আল্লাহ জান্নাতবাসী করুন এবং তাদের জীবনের গুনাহ সমূহ মাফ করুন, নেক আমলসমূহ কবুল করুন। আমিন।