• ঢাকা |

জিংকের ঘাটতি রোধে ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: মানবদেহে জিংকের প্রয়োজনীয়তা, জিংক ঘাটতির ক্ষতিকর দিক এবং জিংক সমৃদ্ধ খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জিংক সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের পাশাপাশি জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষ ও এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট ) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে রিয়েক্টস ইন প্রকল্পের আওতায় এ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।

কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সময় মানবদেহে জিংকের প্রয়োজনীয়তা, জিংকের ঘাটতি হলে সম্ভাব্য পুষ্টিগত সমস্যা এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে জিংকের ঘাটতি পূরণের বিভিন্ন উপায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান ১০২, ব্রি ধান ১০০, ব্রি ধান ৮৪ ও ব্রি ধান ৭৪ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ইএসডিও ও রিয়েক্টস ইন প্রকল্পের ফোকাল কৃষিবিদ মো. আশরাফুল আলম।

আলোচনায় তিনি বলেন, শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে জিংকের ভূমিকা রয়েছে। তাই সুষম খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি জিংক সমৃদ্ধ খাবার ও ধান সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পরিবার পর্যায় থেকে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, এর আগে তাদের অনেকেরই জিংকের প্রয়োজনীয়তা কিংবা জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে জিংকের গুরুত্ব এবং জিংক সমৃদ্ধ চালের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পেরে তারা উপকৃত হয়েছে। নিজেদের খাদ্যাভ্যাসে জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি বাবা মা, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষ এবং এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিনয় কুমার রায়ের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হারভেস্টপ্লাসের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. শাহীনুল কবির, ইএসডিও ও রিয়েক্টস ইন প্রকল্পের ফোকাল কৃষিবিদ মো. আশরাফুল আলম, প্রজেক্ট অফিসার মো. আবু তালহা শিশিরসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচিতে জিংকের ঘাটতি প্রতিরোধে পুষ্টিসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও পরিবারের মধ্যে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।