১০ থেকে ৫০ লাখ টাকার মূলধন চায় নতুন উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে কেন্দ্র করে অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমের সমন্বয়ে একটি দেশব্যাপী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে একটি উদ্যোক্তা পক্ষ। এ উদ্যোগে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, প্রকল্পটি একবারে বড় পরিসরে নয়; বরং পর্যায়ক্রমে ‘ব্রিক বাই ব্রিক’ বা ইটের পর ইট পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে। তাদের দাবি, এতে বিনিয়োগকারীরা প্রকল্পের অগ্রগতি ও ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে সরাসরি যুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন।
প্রস্তাবনায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। দেশব্যাপী একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে অফলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে বাস্তব উপস্থিতি তৈরির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কাঠামো, সেবার পরিধি, সম্ভাব্য আয়, ব্যয়, অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে প্রকাশ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
‘১৮ মাসে BMW’—আকর্ষণীয় প্রত্যাশা, কিন্তু নিশ্চয়তা নয়
বিনিয়োগ আহ্বানের প্রচারে বলা হয়েছে, একজন বিনিয়োগকারী বর্তমানে একটি ‘Toyota’-এর সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে আগামী দেড় বছরের মধ্যে একটি সম্মানজনক ‘BMW’ অর্জনের লক্ষ্য রাখতে পারেন।
তবে এ ধরনের তুলনা বিনিয়োগের নিশ্চিত রিটার্ন বা মুনাফার প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বাস্তবে কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগে নির্দিষ্ট সময়ে কত মুনাফা হবে, তা নির্ভর করে ব্যবসার মডেল, বাজার পরিস্থিতি, পরিচালন ব্যয়, রাজস্ব, প্রতিযোগিতা, ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য ঝুঁকির ওপর।
ফলে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকল্পটির আর্থিক হিসাব, প্রত্যাশিত আয়-ব্যয়, বিনিয়োগের ব্যবহার, মালিকানা কাঠামো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগে ‘নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ’-এর কথা
উদ্যোক্তা পক্ষের প্রস্তাবনায় বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন অথবা একাধিক বিনিয়োগকারী মিলে একটি দল গঠন করতে পারেন বলেও জানানো হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর চাহিদা ও পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে শর্ত নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগের কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, মালিকানা বা অংশীদারত্ব, লাভের অংশ, পরিচালনা এবং অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতি—এসব বিষয় চূড়ান্ত চুক্তির আগে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
অনলাইন প্রস্তাব নয়, সরাসরি বৈঠকের আহ্বান
উদ্যোক্তা পক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক যোগাযোগের পর বিস্তারিত আলোচনার জন্য সরাসরি স্বশরীরে বৈঠক করা হবে। কোনো অনলাইন মিটিং বা ফাইল/প্রস্তাবনা পাঠানো হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে, কেবল সিরিয়াস এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিনিয়োগে প্রস্তুত ব্যক্তিদের যোগাযোগ করতে। ‘দেখছি’ বা ‘ভাবছি’ ধরনের আগ্রহীদের যোগাযোগ না করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—বড় সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় দায়িত্ব
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ খাত। প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে অনলাইন শিক্ষা, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং অফলাইন সেবার সমন্বিত মডেলের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে এই দুই খাতে কাজ করতে হলে শুধু ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নয়, সেবার মান, তথ্যের নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর অধিকার, পেশাগত ও আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং জবাবদিহিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, পেশাগত অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য। একইভাবে শিক্ষা কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও মানদণ্ডও বিবেচনায় নিতে হবে।
বিনিয়োগের আগে যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি
সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকল্পটিতে অর্থ দেওয়ার আগে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি—
মোট বিনিয়োগ কত এবং কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হবে?
বিনিয়োগকারীর মালিকানা বা অংশীদারত্ব কীভাবে নির্ধারিত হবে?
লাভ কীভাবে এবং কখন বণ্টন করা হবে?
বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার কাঠামো কী?
প্রকল্পের আয় করার নির্দিষ্ট উৎস কী?
১৮ মাসের লক্ষ্যের পেছনে কী আর্থিক হিসাব রয়েছে?
প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে?
বিনিয়োগকারীর তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কতটুকু?
ব্যবসা প্রত্যাশা অনুযায়ী না চললে ঝুঁকি কে বহন করবেন?
বিনিয়োগের অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
লিখিত চুক্তি ও প্রয়োজনীয় আইনগত নথিপত্র কী থাকবে?
এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট ও নথিভুক্ত উত্তর ছাড়া শুধু আকর্ষণীয় সম্ভাব্য মুনাফার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়।
যোগাযোগ
প্রস্তাবিত উদ্যোগের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে বসুন্ধরা, ঢাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
WhatsApp: 01772-228240
Cell: 01790-984414
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে কেন্দ্র করে বাস্তবভিত্তিক একটি দেশব্যাপী হাইব্রিড প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পটির বাস্তব ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন সক্ষমতা, আর্থিক স্বচ্ছতা, ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর।
প্রতিবেদনের তথ্য উদ্যোক্তা পক্ষের দেওয়া প্রস্তাবনার ভিত্তিতে উপস্থাপিত; প্রকল্পের আর্থিক দাবি, সম্ভাব্য মুনাফা বা বিনিয়োগের ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।