নিজস্ব প্রতিবেদক: বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে তার জামিন নামঞ্জুরের পেছনে বিচার বিভাগে সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নির্দেশনা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে জামায়াতে যোগ দেওয়ার কারণে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিমানবন্দরের পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সেখানে অনেক সময় ট্রলি পাওয়া যায় না এবং লাগেজ পেতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এসব অনিয়মের বিষয়ে আখতারুজ্জামান কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কারণে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে করা মামলা জামিনযোগ্য হলেও আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন। এ ঘটনায় বিচার বিভাগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে সেদিনের ঘটনা নিয়ে জাতির সামনে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন এবং এতে শপথ ভঙ্গ হয়েছে। মন্ত্রী সত্যিকার অর্থে দায়িত্বশীল হলে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন, তাদের প্রত্যাহার করতেন এবং প্রয়োজন হলে মামলা করতেন। কিন্তু তা না করে অব্যবস্থাপনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করার ধরন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সমাজে সম্মানীয় একজন ব্যক্তিকে হাতকড়া, হেলমেট ও জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। জামায়াত এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
আখতারুজ্জামানকে কারাগারে ডিভিশন না দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, আখতারুজ্জামান সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা—এ সংক্রান্ত গেজেট আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপরও তাকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। ৭৫ বছর বয়সী আখতারুজ্জামান অসুস্থ হলেও তার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অবিলম্বে আখতারুজ্জামানের ডিভিশনের আদেশ কারাগারে পাঠানোর দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিচারকরা তাকে ডিভিশন দিতে ভয় পাচ্ছেন এবং এর পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে। তবে তার এ অভিযোগের বিষয়ে সরকারের বা সংশ্লিষ্ট আদালতের কোনো বক্তব্য প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপির আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগও করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, আখতারুজ্জামানের আইনজীবীদের ওপর হামলা এবং তাকে দেখতে যাওয়া জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্বজনদের ওপরও হামলা করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনাকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আদালতকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, আগের সময়ের মতোই এখন আদালতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আচরণের দিক থেকে কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে তিনি জানান। এমনকি আখতারুজ্জামানকে মুক্তি না দিলে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’-এর ঘোষণা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত উপস্থিত ছিলেন।