• ঢাকা |

সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য রিয়াদ সফর


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আলোচনা চান মোহাম্মদ বিন সালমান
ডেস্ক রিপোর্ট:
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারপ্রধানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ ক্রাউন প্রিন্সের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

আমন্ত্রণপত্রে মোহাম্মদ বিন সালমান বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সফরে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময়ের কথা বলা হয়েছে।

তবে আমন্ত্রণপত্রে সফরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য সুবিধাজনক সময়ে সফরের তারিখ ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

প্রস্তাবিত এই সফর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিদ্যমান অংশীদারত্ব পর্যালোচনার পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও জনশক্তি রপ্তানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী সৌদি আরবে কর্মরত। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; দেশের লাখো পরিবারও এই সম্পর্কের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন চলমান পরিস্থিতিও সম্ভাব্য বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় হলে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে অবস্থান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের এ ধরনের সফর দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি বিদ্যমান সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌদি সফরের পরবর্তী ধাপ হিসেবে এখন ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হবে। উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময় বিবেচনায় নিয়ে সফরের তারিখ, কর্মসূচি এবং আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

আমন্ত্রণের শেষাংশে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিও কামনা করেছেন তিনি।

সৌদি আরবের এই আমন্ত্রণ তাই কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তাব নয়; বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেও তাৎপর্যপূর্ণ।