• ঢাকা |

লালমনিরহাটে ভুট্টা চত্বরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে ৪০ একর থেকে শুরু, এখন জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল

লালমনিরহাট প্রতিনিধি | কল্লোল আহমেদ: লালমনিরহাটে ভুট্টা চাষের দীর্ঘ পথচলার স্মারক হিসেবে শহরের ক্যান্টিন মোড় এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে ‘ভুট্টা চত্বর’। জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ চত্বরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

 

আজকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

৪০ একর থেকে হাজার হাজার হেক্টর

 

কৃষি বিভাগ সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাটে ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে মাত্র ৪০ একর জমিতে ভুট্টা চাষ শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা এলাকায় এর আবাদ বাড়তে থাকে এবং সময়ের সঙ্গে জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও ছড়িয়ে পড়ে।

 

তবে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের জেলা ব্র্যান্ডিং তথ্য ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যভান্ডারে বলা হয়েছে, এ জেলায় ভুট্টা চাষ মূলত নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হয়।

 

কৃষি বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ভুট্টা এখন লালমনিরহাটের অন্যতম প্রধান ফসল। ২০২৫ সালে জেলায় দুই মৌসুমে প্রায় ৩৯ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫৫ মেট্রিক টন।

 

২০২৫ সালের আরেক সরকারি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে জেলার প্রায় ৩৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের তথ্যও পাওয়া যায়, যা মৌসুমভেদে আবাদ এলাকার পার্থক্যকে নির্দেশ করে।

 

ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে কৃষকের জীবন

 

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তুলনামূলক কম খরচ, কম সময়ে ফলন এবং বাজারে চাহিদার কারণে কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বাড়ছে। তিস্তা নদীর চরাঞ্চলসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন ভুট্টার আবাদ দেখা যায়। ভুট্টা গবাদিপশুর খাদ্যসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় বছরজুড়েই এর চাহিদা রয়েছে।

 

লালমনিরহাট জেলা ব্র্যান্ডিংয়েও ভুট্টাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ব্র্যান্ডিং তথ্যে ভুট্টাকে জেলার অন্যতম প্রধান উৎপাদিত শস্য হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর চাষ মানুষের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়িয়েছে এবং জীবনমানের পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।

 

ভুট্টাভিত্তিক শিল্প স্থাপনের প্রত্যাশা

 

ভুট্টা চত্বরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্যভিত্তিক কলকারখানা স্থাপনে সরকার সহজ শর্তে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে।

 

তিনি বলেন, লালমনিরহাটে ভুট্টাভিত্তিক কলকারখানা গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠিত হলে কৃষকের উৎপাদিত ভুট্টার বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে ভুট্টা উৎপাদনে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে ভুট্টা চত্বর নির্মাণকে তাই শুধু একটি স্থাপনা নয়, জেলার কৃষি অর্থনীতি ও ভুট্টাভিত্তিক সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।