• ঢাকা |

সব কিছুর বিনিময়ে জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখব: ডা. শফিকুর রহমান


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

সরকারকে জনগণের গণরায় সম্মানের আহ্বান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর সোচ্চার অবস্থান
এমএম রহমাতুল্লাহ:
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "সব কিছুর বিনিময়ে জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখব।" তাঁর ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যের অবসান ঘটানো এবং জনগণের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারও অতীতের সরকারের মতো বিরোধী মত দমনে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করছে এবং জনগণের গণরায়কে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত "জান দেবো, জুলাই দেবো না" শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনে দলীয় বিবেচনায় পদোন্নতি ও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের বসানো হলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
পূর্ববর্তী জাতীয় নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারকেও জনগণের কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভার প্রধান আলোচক, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমেদ বীর বিক্রম সরকারের প্রতি রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়িত না হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে বলে তাঁর দল মনে করে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও মানবিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তিনি দাবি করেন, সেই আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষিত লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো উদ্যোগে তাঁর দল সহযোগিতা করবে; তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত এলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুছা বিন ইজহার এবং জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, গণভোটের ফলাফল এবং রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণরায়ের প্রতিফলনের প্রশ্নকে সামনে আনছে, অন্যদিকে সরকার এসব বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরছে। ফলে রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি—এই তিনটি ইস্যু আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।