তন্ময় আলমগীর, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসায় হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজাদুর রহমান সুজনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) গভীর রাতে কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া বনানী মোড় এলাকা থেকে র্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে সুজনকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজাদুর রহমান সুজনকে সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।"
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন এবং সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
র্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশরাফুল কবির জানান, সুজনকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার সকালে তাঁকে ইটনা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে আদালতে পাঠায় এবং আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট বিকেলে ইটনা উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতে ইটনা থানায় দায়িত্বরত আনসার সদস্য মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। আজাদুর রহমান সুজন ছিলেন এ মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে স্থানীয় কিছু যুবক উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই সদর ইউনিয়নের ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে একটি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করে ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করে। অভিযোগ উঠে, খেলার পাশাপাশি সেখানে জুয়ার আয়োজনও হচ্ছিল। এ বিষয়ে তদন্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টুর্নামেন্ট বন্ধের নির্দেশ দেন।
কিন্তু ইউএনওর নির্দেশ অমান্য করে আয়োজকরা খেলা চালিয়ে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খেলা বন্ধের নির্দেশ দেয়। এ সময় খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং তারা মিছিল নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে ইউএনওর বাসভবনে হামলা চালানো হয়। দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।