• ঢাকা |

তিস্তা মহা পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

মো: সাদেকুল ইসলাম, লালমনিরহাট: তিস্তা মহা পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান  আন্দোলনে ম,এতে রয়েছে অনেকগুলো সংগঠন। সবার দাবি একটাই, "তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চাই।" তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান। আন্দোলন এখন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নর্থ বেঙ্গল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সারা বাংলাদেশ যখন আধুনিক তাহলে আমাদের উত্তরবঙ্গ এত অনুন্নত কেন। আমাদের সাথে বৈষম্য করা চলবে না। চরের  মানুষ স্বাস্থ্য সেবার ঝুঁকিতে রয়েছে সেখানে নেই কোন পর্যাপ্ত ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। যানবাহন তো দূরের কথা  শুকনো মৌসুমে বালুচরে হেঁটে রোগীকে নিয়ে আসতে হয় ২০ কিলোমিটার দূরে সদর হাসপাতালে। অনেক সময় সঠিক সময় পৌঁছান না  রোগী। তার বাস্তব উদাহরণ আজকের এই ছবি। আমাদের প্রতি এই অবহেলা আর কতদিন চলবে?এই অবহেলা থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন চাই। বাংলাদেশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে পদ্মা সেতু তৈরি করতে কয়েক দফায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সেখানে ১২ হাজার কোটি টাকা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য  সামান্য বলে আমি একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে মনে করি। এটি যদি একনেকে উপস্থাপন করে প্রধান উপদেষ্টা। তাহলে আমার বিশ্বাস কোন দল এর বিরোধিতা করবে না। এটি লিখতে গিয়ে একটি কথা আমার মনে পড়ে গেল আমরা সব সময় দেখি যে যে লোকগুলো সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করে তারাই আবার সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে । এটি লিখতে গিয়ে আরও একটি কথা আমার মনে পড়ে গেল  সেটি হল যমুনা সেতু তৈরির পরেও উত্তরবঙ্গ  রাস্তা প্রশস্ত  না  থাকার কারণে  অসংখ্য লোককে জীবন দিতে হয়েছে। আর বিশেষ করে লক্ষ্য করা যায় যে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গুলোতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শ্রম দেয় উত্তরবঙ্গের মানুষ। ঈদের সময় লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন যে বাড়ি আসার জন্য তাদের তুমুল প্রতিযোগিতা করতে হয়। অনেকে আবার সময় মত না পৌঁছার কারণে তাদেরকে ঈদ করতে হয়   টাঙ্গাইল সিরাজগঞ্জের মত জায়গায়। তাই আমি মনে করি এটাও আমাদের এক ধরনের বৈষম্য শিকার এই বঙ্গের মানুষ। উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে আর বৈষম্য করা চলবে না। উত্তরবঙ্গের মানুষ কাঠের পুতুল নয় যে তাকে যেভাবে নাচাবেন সেভাবে নাচবে। সুতরাং সময় থাকতেই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করুন। রংপুর বিভাগের পাঁচটি জেলার তিন কোটি মানুষের দাবি মেনে নিন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। এবং সেটা সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই করতে হবে। কারণ তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু ভাইয়ের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন এই অঞ্চলের তিন কোটি মানুষ। এই আন্দোলন এখন তীব্র থেকে তীব্রতরেও রূপান্তরিত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়  এবং ঢাকা শহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান নর্থ বেঙ্গল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন একাত্মতা ঘোষণা করেছে এই আন্দোলনের সঙ্গে। সুতরাং  সময় ক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবায়ন করাই উত্তম বলে আমি মনে করি।