রিপোর্ট ডেস্ক: ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জাল ভোট প্রদান, নির্বাচন কমিশন গঠনে অসামঞ্জস্য এবং ভোটগ্রহণ ও গণনায় অনিয়মের কারণে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দুটি প্যানেলের সম্মতিতে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ এবং উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করার কথা থাকলেও এবারের নির্বাচনে তা মানা হয়নি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬–২০২৭ কার্যকরী বর্ষের নির্বাচনের জন্য বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে ৯০ জন এবং বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেল) থেকে ৪১ জন সদস্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এতে সমতা বজায় না থাকায় নির্বাচন শুরুর আগেই পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
এছাড়া ভোটগ্রহণের সময় ভোটার যাচাই-বাছাই যথাযথভাবে না করা, ভোটার স্লিপ ছাড়া ব্যালট পেপার বিতরণ এবং বিভিন্ন বুথে প্রবেশ করে টেম্পারিংয়ের অভিযোগও ওঠে। অনেক ভোটার ভোট দিতে এসে জানতে পারেন যে তাদের ভোট ইতোমধ্যে প্রদান করা হয়েছে, যা ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
ভোটগ্রহণ শেষে গণনার সময়ও অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এসব কারণে আইনজীবীদের কাছে নির্বাচনটি বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অনিয়মের মধ্যেও যারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আইনজীবীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল ও ১১ দলীয় জোট আগের মতোই পাশে থাকবে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে।