• ঢাকা |

তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে লালমনিরহাটে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

কল্লোল আহমেদ, লালমনিরহাট: “বাঁচাও তিস্তা, বাঁচাও জীবন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার বিকেলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর চরে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
‘তিস্তা চুক্তি বনাম তিস্তা মহাপরিকল্পনা’—এই বিষয়ে চূড়ান্ত পর্বের বিতর্কে অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ডিবেট ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন।
বেরোবি ডিবেট ফোরামের সভাপতি রিশাদ নুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ও মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকত আলী। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন রংপুর উত্তরাঞ্চল পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মোহা. সরফরাজ বান্দা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও নদী গবেষক ড. তুহিন ওয়াদুদ এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইএসডিওর প্রধান নির্বাহী ড. মো. শহীদ-উজ-জামানসহ অন্যান্যরা।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট ফোরামের সদস্যরা চ্যাম্পিয়ন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেট ফোরামের সদস্যরা রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পরে বিজয়ী ও রানারআপ দলকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
মুখ্য আলোচক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু তার বক্তব্যে বলেন, “তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন, জীবিকা ও জলবায়ু নির্ভরশীল। অথচ আজ সেই তিস্তা ধুধু মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন আর কেবল আঞ্চলিক দাবি নয়—এটি এখন জাতীয় দাবি।
তিনি আরও বলেন, “মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে। অথচ বারবার আশ্বাস দিয়েও বর্তমান উপদেষ্টারা কথা রাখেননি। আমরা ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজের উদ্বোধন দাবি করছি। তা না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”