• ঢাকা |

আসলাম চৌধুরীর মামলার চূড়ান্ত শুনানি ২৮ এপ্রিল: রায়ের দিকে নজর সারাদেশে


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আপিল বিভাগে সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী আসলাম চৌধুরী সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলাটি মূলত তাঁর ব্যাংক ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিতকরণ, নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা এবং পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জটিল আইনি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে।
আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, আসলাম চৌধুরী নিজেকে ঋণ খেলাপি নন বলে দাবি করে এবং ব্যাংকের সিআইবি (Credit Information Bureau) রিপোর্টের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট একটি আদেশ দেন, যেখানে বলা হয় তিনি একটি অঙ্গীকারনামার (affidavit) মাধ্যমে ৮ সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা দেবেন।
আদালতের নির্দেশনায় আরও উল্লেখ ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা না দিলে ওই স্থগিতাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারাবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ হয়নি।
পরবর্তীতে একই ইস্যুতে অন্য একটি বেঞ্চে নতুন করে স্থগিতাদেশ গ্রহণ করা হয়—যা নিয়ে আদালতে আইনি ব্যাখ্যা ও এখতিয়ার সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এটিকে বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করলেও, প্রতিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন এটি আইনগত অধিকার প্রয়োগের অংশ।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় সংশ্লিষ্ট আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে মামলার একপক্ষ দাবি করছে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে; অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক দায়-দেনা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করায় বিষয়টি আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালত অতীতে পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, নির্বাচনী প্রতিযোগিতা যেন আইনি জটিলতার কারণে ব্যাহত না হয়, আবার একই সঙ্গে আইনের শাসনও যেন ক্ষুণ্ণ না হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন ২৮ এপ্রিলের রায় কেবল একটি ব্যক্তিগত মামলার নিষ্পত্তি নয়, বরং নির্বাচনী যোগ্যতা, ব্যাংক ঋণ খেলাপি সংজ্ঞা এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
দেশজুড়ে এখন এ মামলার রায়ের দিকে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।