• ঢাকা |

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ‘টানাটানি’ বরদাশত করা হবে না: ডা. শফিকুর রহমান


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩ জুন, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

এমএম রহমাতুল্লাহ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের দখল বা নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা দেশের জনগণ মেনে নেবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ইসলামী ব্যাংককে সাবেক সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কাফরুল পশ্চিম থানা সেক্রেটারি এস এম রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মহানগরীর প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন এবং অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম।

ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আবারও ব্যাংক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। ইসলামী ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর রাজনৈতিক জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা জরুরি।

বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় তার দল শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে এবং কখনোই ‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ ভূমিকায় থাকবে না।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। দেশের ৩০০ সংসদ সদস্য ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগ নিলে এ সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে অনেক মানুষ এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে ইরান, লেবানন ও গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব দেশের মানুষের ওপর পড়ছে। সৃষ্ট সংকট কৃত্রিম হলে দ্রুত সমাধান এবং বৈশ্বিক কারণে হয়ে থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, সংসদ সঠিকভাবে কার্যকর হলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।

জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গ্যাসের মজুত কমে গেলেও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও পরবর্তী সময়ে সামান্য হ্রাসের সমালোচনা করে তিনি এটিকে জনগণের সঙ্গে ‘তামাশা’ বলে আখ্যায়িত করেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শিগগিরই আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।