কল্লোল আহমেদ, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে বিএনপি ও দলটির শীর্ষ নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে জেলা বিএনপি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ‘হামার বাড়ি’তে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক একে এম মমিনুল হক বলেন, গত ৫ অক্টোবর লালমনিরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিডিআর হাট এলাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা ও বিরোধের বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের দোসর ও চিহ্নিত অপরাধীরা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। উত্তরবঙ্গের নেতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর রাজনৈতিক অর্জন এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি মাদক কারবারি, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানায় জেলা বিএনপি।
জমি নিয়ে বিরোধ, থানায় এজাহার
এদিকে, গত ৫ অক্টোবরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লালমনিরহাট জজ কোর্টের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবীর লালমনিরহাট সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, বিডিআর হাটের খোচাবাড়ী এলাকায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। ওই জমি নিয়ে মো. ফরহাদ আহম্মেদ সম্রাট, মো. খোরশেদ আলম লিটনসহ অন্যদের সঙ্গে তাঁর ল্যান্ড সার্ভে মামলা চলমান রয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে মামলা তুলে নেওয়ার বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর বসতবাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বুলডোজার দিয়ে বাড়ির প্রাচীর ও গেট ভেঙে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করা এবং পকেট থেকে নগদ টাকা ও পরিবারের সদস্যদের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
জেলা বিএনপির দাবি, পারিবারিক ও জমিসংক্রান্ত বিরোধকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। তবে এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।