• ঢাকা |

চলনবিলে শামুক নিধন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ৮ জনের জরিমানা


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১ অক্টোবর, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

গোলাম মোস্তফা: চলনবিল অঞ্চলে বর্ষাকালে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে শামুক নিধন। এতে জীববৈচিত্র ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বিলের পানির প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসাবে পরিচিত শামুক বাঁচাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, তাড়াশ উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে চলনবিল অধ্যূষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় শামুক বেচাকেনার  একাধিক স্থানে অভিযান চালায়।

রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তাড়াশ থেকে গুরুদাসপুর মৈত্রি সড়কের দিঘীসগুনা, কামারশন, কুন্দইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামুক ধরার অপরাধে ৮ জনকে জরিমানা করা হয়। ৬০ বস্তা ও ৭ নৌকা ভর্তি শামুক বিলের পানিতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাতে শামুক ধরতে বেড়িয়ে পড়েন লোকজন। মই জাল টেনে রাতভর শামুক ধরেন। ভোর বেলাতে শ্যালো মেশিনের নৌকায় বেচতে আসেন। বিশেষ করে হাঁসের খাওয়ার জন্য খামারিদের কাছে শামুকের ব্যপক চাহিদা রয়েছে।

এদিকে চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির তাড়াশ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজু রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, তাড়াশ উপজেলা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, দেরিতে হলেও আইনের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। শামুক জীববৈচিত্র রক্ষা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অবাধে শামুক নিধন ভারসাম্য নষ্ট করে। চলনবিলের জীববৈচিত্র রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যপকহারে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. জেড. এম নাহিদ হোসেন দি মুসলিম টাইমসকে বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী শামুক নিধনের অপরাধে এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। শামুক নিধন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যহত থাকবে।