• ঢাকা |

আসামে বাঙালি মুসলমানদের উচ্ছেদ, ১০ মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদ বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ভারতের আসাম রাজ্যে সংখ্যালঘু বাঙালি মুসলমানদের কথিত অন্যায় উচ্ছেদ ও নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ। সংগঠনটি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ জানায়, গত ১৮ অক্টোবর থেকে ভারতের সরকারের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে আসামের নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলার বনাঞ্চল থেকে প্রায় ১১০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই অভিযানে ১০টি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির দাবি, সংখ্যালঘু বাঙালি মুসলমানেরা ঔপনিবেশিক আমল থেকে লুটুমারি বনাঞ্চলে টাউঙ্গিয়া ব্যবস্থার অধীনে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা এসব মানুষের উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত বছরের নভেম্বর মাসে একই অঞ্চলে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের দাবি, ভারতের আসাম রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) গত এক দশকের শাসনামলে উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ বিবৃতিতে ভারত সরকারের সংখ্যালঘুবিরোধী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, কোনো জনগোষ্ঠীকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা এবং তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস করা মানবিক উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সংগঠনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর সুরক্ষা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের মতে, আসামের উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মানবিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আনা জরুরি। সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।