চায়ের গুণগতমান বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ
মোঃ মিজানুর রহমান পঞ্চগড় : উত্তরাঞ্চলের ক্ষুদ্র চা চাষিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুণগতমান সম্পন্ন সবুজ চা পাতা উৎপাদন এবং চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় উদ্বুদ্ধকরণ আলোচনা ও মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে তেঁতুলিয়া সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের জেলা আঞ্চলিক ইনচার্জ আমির হোসেন, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান, স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যান্ড টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এবিএম আখতারুজ্জামান, সংগঠনের পরিচালক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাহিন, সহসভাপতি শাহজাহান খান ও মতিয়ার রহমান।
এ ছাড়া কর্মশালায় সলিডারিডাডের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষুদ্র চা চাষি, চা শ্রমিক, চা ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের চা শিল্পকে আরও সম্ভাবনাময় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুণগতমানসম্পন্ন সবুজ চা পাতা উৎপাদনের বিকল্প নেই। এ জন্য চা চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক পরিচর্যা, অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ পরিহার এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চা পাতা সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, চা পাতা সংগ্রহের ক্ষেত্রে 'দুটি পাতা একটি কুঁড়ি' নীতি অনুসরণ এবং উপযুক্ত যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদিত চায়ের গুণগতমান বৃদ্ধি পাবে। এতে নিলাম বাজারে চায়ের ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি কাঁচা চা পাতার ন্যায্যমূল্য পেয়ে ক্ষুদ্র চাষিরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
আলোচনায় চা পাতার বর্তমান বাজারদর নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাঁদের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর চাষিরা কাঁচা চা পাতার তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছেন চাষিরা।
কর্মশালায় কয়েকজন বক্তা চায়ের বাজারদরের উন্নতির সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিএনপি সরকারের ভূমিকার সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনার মাধ্যমে চা শিল্পের আরও অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে চা উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশকের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, পঞ্চগড়ের চা ইতোমধ্যে গুণগতমানের কারণে দেশীয় বাজারে পরিচিতি অর্জন করেছে। এখানকার অর্গানিক চা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং চাষিদের দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে পঞ্চগড়ের চায়ের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
কর্মশালায় ক্ষুদ্র চা চাষিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, উন্নতমানের পাতা সংগ্রহ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং চা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও চাষিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পঞ্চগড়ের চা শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।