স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সরকারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম হোতা , কর্মচারী নেতা সাইদুজ্জামান সবুজের বিরুদ্ধে নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের দোসর এই কর্মচারী নেতা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। রাজস্ব খাতে অচলাবস্থা অব্যাহত রাখতে নানামুখী ষড়যন্ত্র বিস্তার করছেন তিনি। এনবিআর চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে ছিলেন এই কর্মচারী নেতা। আওয়ামী লীগ আমল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এনবিআরের কর্মচারী কল্যাণ সমিতি “এমপ্লয়ী ওয়েলফেয়ার এসোসিশেন” এর সাধারণ সম্পাদকের পরিচয় দিয়ে আসছেন।
সূত্রমতে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সংসদ সদস্য , মন্ত্রী ও ঢাকার দুই মেয়রের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন লায়ন সবুজ। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। আর এই কাজে সহযোগিতা করেছেন তার পিতা আদিল উদ্দিন ।যিনি মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের একটি ইউনিটে কর্মরত আছেন।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, পিতা আদিল উদ্দীনের তদবিরের মাধ্যমে এনবিআরে অফিস সহায়ক হিসেবে যোগদান করেন সাইদুজ্জামান সবুজ। এরপর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের আশীর্বাদে তৃতীয় শ্রেণিতে পদন্নোতি লাভ করেন এবং সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্য পদে আসীন হন।
জানা গেছে, তিনি খুব সহজেই রঙ বদলাতে পারেন। গত বছর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ঘোর বিপক্ষে ছিলেন । মেয়র তাপসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার জন্য জনবল ও অর্থ সরবরাহ করেন সবুজ। রাজনীতিকে পুঁজি করে কৌশলে নিজের অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা করেছেন তিনি। ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের রং বদলে ফেলেন । গণভবনের সম্মুখে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পতাকা হাতে ছবি তুলে দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন।
কিন্তু তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে থাকা দুটি ছবিতে “ভরসা রাখুন নৌকায়” এবং শেখ হাসিনা’স ম্যান লেখা রয়েছে। লেখা গুলো প্রমাণ করে তিনি পতিত স্বৈরাচার সরকারের দোষর ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ছবি গুলো মুছে ফেলা হয়। তবে কিছু ছবি এবং সংরক্ষিত অন্যান্য প্রমাণাদি গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে এসেছে। এবিষয়ে কথা বলতে সাইদুজ্জামান সবুজের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি।