জহুরুল হক মিলু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের চরশালনগর মধুমতি নদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের উপচে পড়া ভীড় ।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের জনগণের উদ্যোগে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতা দেখতে দুপুর থেকেই মধুমতি নদীর মাকড়াইল আদর্শ গ্রাম হতে চরশালনগর মেলা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার জুড়ে নদীর দুই পাড়ে মানুষ জড়ো হতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর দুই পাড় কানায় কানায় ভরে যায় দর্শনার্থীতে। নড়াইল জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে হাজারো মানুষের আগমন ঘটে। পুরো বাইচ উপভোগ করার জন্য অনেক দর্শনার্থী ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চড়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শিশু, নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণির দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এদিন প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্ধোধন করেন নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা হারিয়ে যেতে বসেছে। তরুণ সমাজ মোবাইলে ফেসবুক, ইউটিউব, অনলাইন গেমসহ ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সময় নষ্ট করছে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনতে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
এসময় লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আহাদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, শালনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী উজ্জ্বল, আয়োজক কমিটির মোঃ মুছা মোল্যা, কালাম শেখ, আবু ফকির, পিকুল মোল্যা, মিলটন শেখ, জাদু শেখ, নজরুল শেখ, জিল্লা মোল্যাসহ শালনগর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির বিএনপির সভাপতি মোঃ আহাদুজ্জামান বাটু বলেন, নৌকা বাইচ বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। দেশের আবহমান গ্রাম বাংলার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রতি বছর এর আয়োজন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্য মিশে রয়েছে। এটা যাতে হারিয়ে না যায় সেই উদ্যোগ নিতে হবে।
আয়োজক কমিটির মোঃ মুছা মোল্যা জানান, মধুমতি নদীর মাকড়াইল আদর্শ গ্রাম থেকে নৌকা ছাড়া হয় তা দুই কিলোমিটার নদী পাড়ি দিয়ে চরশালনগর মেলায় এসে শেষ হয়। পয়েন্টভিত্তিক এ প্রতিযোগিতায় ৪ বার অংশগ্রহণ করতে হয় নৌকাগুলোর।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের মরিচ পাশা গ্রামের সেকেন্দার মোল্যা বলেন, আমি দীর্ঘদিন পর মধুমতি নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে এসেছি। এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আমরা খুব আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেছি। আগামীতেও যেন এ ধারা অব্যাহত থাকে।
লোহাগড়া উপজেলার আড়পাড়া থেকে নৌকা বাইচ দেখতে আসা মোঃ হাবিবুর রহমান তবি বলেন, আমরা বর্তমানে ফেসবুক ইন্টারনেট ভিত্তিক বিনোদনে আসক্ত হয়ে পড়েছি। বহুদিন পর নৌকা বাইচ দেখতে গিয়ে সুন্দর একটি বিকেল অতিবাহিত করেছি। আমাদের মতো হাজার হাজার মানুষ নির্মল আনন্দ উপভোগ করেছে। এরকম প্রতিবছর বর্ষাকালে নড়াইল নদী ও বিলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করার দাবি জানাচ্ছি।
এ প্রতিযোগিতায় নড়াইল, মাগুরা, খুলনা, গোপালগঞ্জ জেলা হতে আসা ৫ টি নৌকা অংশগ্রহণ করে।
নৌকা বাইচের সঙ্গে গ্রামীণ মেলার আয়োজনও ছিল। মেলায় ছিল হাওয়াই মিঠাই, মাটির তৈরি পুতুল, খেলনার দোকান, ভাজা-ঝালমুড়ির দোকান, বাঁশি, ফুচকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের দোকান।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আহাদুজ্জামান বাটু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম।