• ঢাকা |

বৃষ্টির মধ্যে মাগুরায় মহিলা দলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ফারুক আহমেদ, মাগুরা: শিক্ষা, সমতা ও উন্নয়ন এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে মাগুরা সদর উপজেলার ১ নং হাজীপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদল মাগুরা ১নং হাজীপুর ইউনিয়নে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার ২৯ অক্টোবর বিকাল ৩ টার সময় ফুলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে মাগুরা ১ নং হাজীপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের আয়োজনে সমাবেশ হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ১ নং হাজীপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সাবেক আহবায়ক মোছাঃ গোলাপী সুলতানা ও সঞ্চালনা করেন ১ নং হাজীপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সাবেক সদস্য সচিব ডাঃ রিমা খাতুন। 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সহ-ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটি মহিলা দল সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাগুরা জেলা মহিলা দল সভাপতি উম্বিয়া কুলসুম উর্মি ও মাগুরা জেলা মহিলা দল সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট ফারহানা পারভীন বিউটি। 

এছাড়াও উপস্থিত সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফা আশরাফী চুমকী, মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য রাজু খান, মাগুরা জেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এহসানুল হক পলাশ, মাগুরা জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি পারভীন আক্তার শিউলী, মাগুরা জেলা বিএনপি মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জেসমিন আক্তার স্মৃতি, জেলা মহিলা দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পাপিয়া শারমিন রত্না, জেলা মহিলা দলের বন ও পরিবেশ সম্পাদিকা জোছনা পারভীন, শ্রীপুর উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপিকা শাহানা ফেরদৌস হ্যাপি,  মাগুরা পৌর শাখা মহিলা দলের আহবায়ক খুরশিদা ইয়াসমিন ইতি, মাগুরা সদর উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হোসনেআরা খাতুন পলি, সদর থানা আহবায়ক রত্মা পারভীন সহ প্রমুখ। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে হবে। অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনা বিএনপির উপর অনেক জুলুম অত্যাচার চালিয়েও অন্যদলে যোগদান করাতে পারেনি। জামায়াত ইসলামী সহ অন্যান্য সংগঠনের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের বেহেশতের টিকিট দিয়ে তাদের কন্ট্রোল করে নিচ্ছে এব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকতে হবে এবং সপ্তাহে ১-২ দিন পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠক করতে হবে।  আগামীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে একযোগে নির্বাচনের কাজ করতে হবে। তিনি তারেক রহমানের ৩১ দফা নিয়ে আলোচনা করেন ধারাবাহিক ভাবে এবং সবাইকে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ৩১ দফার সবগুলো দফার আলোচনা করতে ওয়ার্ডের নেত্রী ও কর্মীদের বিশেষ অনুরোধ করেন।

রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের তারেক রহমানের ৩১ দফা:

১. জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন।

২. সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্রসত্ত্বা (Rainbow-Nation) প্রতিষ্ঠা ও 'জাতীয় সমন্বয় কমিশন' ('National Reconciliation Commission') গঠন।

৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন।

৪. আইনসভা, মন্ত্রীসভা, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিচার বিভাগের মাঝে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।

৫. প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়সীমা অনুর্ধ্ব পরপর দুই মেয়াদ নির্ধারণ।

৬. বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান, ক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে আইন সভায় উচ্চকক্ষের প্রবর্তন।

৭. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন।

৮. নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি সংশোধন।

৯. স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরনে সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের পুনঃর্গঠন ও শক্তিশালীকরন।

১০. বর্তমান বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃপ্রবর্তন ও সংবিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রণয়ন।

১১. গণমূখী ও জনকল্যাণমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন।

১২. মিডিয়া কমিশন গঠন করে তথ্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।

১৩. দূর্নীতি প্রতিরোধে দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ।

১৪. সর্বস্তরে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা।

১৫. আত্মনির্ভরশীল জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন।

১৬. ধর্মীয় স্বাধীনতার সর্বোচ্চ ও কার্যকর নিশ্চয়তা প্রদান।

১৭. মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধির আলোকে শ্রমজীবি মানুষের ন্যায্য মজুরী নিশ্চিত করা।

১৮. প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং নবায়নযোগ্য ও মিশ্র জ্বালানী ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ খাত আধুনিকায়ন।

১৯. জাতীয় স্বার্থের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করে বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়ন।

২০. প্রতিরক্ষা বাহিনীর অধিকতর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখা।

২১. প্রশাসন ও সেবা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলি স্বশাসিত ও ক্ষমতাবান করা।

২২. শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান।

২৩. কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বেকার ভাতা প্রবর্তন।

২৪. নারীর মর্যাদা সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ।

২৫. চাহিদা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা।

২৬. "সবার জন্য স্বাস্থ্য" এবং "সার্বজনীন চিকিৎসা” ব্যবস্থা কার্যকর করা। প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যাক প্রশিক্ষিত নারী ও পুরুষ পল্লী স্বাস্থ্যকর্মীর ব্যবস্থা করা এবং সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা সুবিধা নিশ্চিত করা।

২৭. কৃষকের উৎপাদন ও বিপণন সুরক্ষা দিয়ে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চত করা।

২৮. সড়ক, রেল, নৌ পথের আধুনিকায়ন ও বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।

২৯. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং নদী শাসন ও খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৩০. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আণবিক শক্তির উন্নয়ন ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

৩১. যুগোপযোগী, পরিকল্পিত, পরিবেশ বান্ধব আবাসন এবং নগরায়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।