নিজস্ব প্রতিবেদক: ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেছেন, ‘‘এদেশের নারী সমাজ আগামী দিনে ইসলাম, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আগামী দিনের বিপ্লব নারী সমাজের হাত ধরেই অর্জিত হবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে গেন্ডারিয়া সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ছাত্রী ও মহিলা সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, জামায়াত নারীদের পিছিয়ে রাখে না, মর্যাদার সঙ্গে আলাদা জায়গা করে দেয়। আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করে জামায়াতে ইসলামী মা-বোনদেরকে সমাজ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যেই কর্মসূচি দিয়েছে সেই কর্মসূচি যুগান্তকারী এবং বাস্তবধর্মী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের লক্ষ্যে আমাদের মা-বোনেরা কাজ করতে গেলে একটি দল আমাদের মা-বোনদের গতিরোধ করছে। তারা বাধা দিচ্ছে, কোথাও হিজাব ধরে টানাটানি করছে, কোথাও গর্ভবতী মায়ের পেটে লাথি মারছেন! আবার কোথাও কোথাও মা-বোনদের সঙ্গে অশ্লীল-কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করছেন। যেটি জাহেলিয়াতি যুগকেও হার মানায়। এই অবস্থায় দেশপ্রেমিক ইসলামী মূল্যবোধের নারী সমাজ ঘরে বসে থাকতে পারে না।
বিগত ৫৪ বছর ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে দিতে অতিষ্ট হয়ে গেছে উল্লেখ করে ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘‘চাঁদাবাজদের হাত থেকে ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতে নতুন নেতৃত্বের বিকল্প নেই’’। পরিবর্তনের লক্ষ্যে পুরাতন বস্তা পঁচা রাজনীতি ও নেতৃত্ব থেকে জাতিকে মুক্ত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ” ভোট এবং ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিতে তিনি নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি ও ঢাকা-৬ আসন কমিটির পরিচালক কামরুল আহসান হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীল কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দলের নেতাকর্মীর কাছে মা-বোন নিরাপদ নয়; তারা ক্ষমতায় গেলে মানুষের জান ও মালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। নির্বাচনের প্রচারণায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন হলেও কমিশন ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারায় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি কমিশন ও প্রশাসন যদি কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব করে তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করতে বাধ্য হবে। তারা মুখে নারীর স্বাধীনতার কথা বললেও তারাই নারী সমাজের স্বাধীনতা, অধিকার হরণ করছে, কেড়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের নারী সমাজ আগামী নির্বাচনে নারীর প্রতি সহিংসতাকারীদের উপযুক্ত জবাব দেবে। তিনি ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় দেশের নারী সমাজকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন লাভলী, মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবা খাতুন শরীফা ও ডা. শাহানা পারভীন লাভলী, ইসলামী ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. রাশিদাহ নাওমী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।