বিশেষ সতর্ক সংকেতঃ-- আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীর সংকটে পড়তে পারে ! তা সামাল দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সেনাবাহিনী, পুলিশসহ সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি প্রয়োগে এখনই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে ।
গত ২১ জুলাই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যে মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত ৩৩ জন এবং আহত প্রায় ৮০ জন। বাস্তবে আরও বেশি হতাহতের খবর বেসরকারি সূত্রে বের হয়ে আসছে , মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে সঠিক নামের তালিকায় সংখ্যা কত তা এখনো প্রকাশ হয়নি ।
এ নিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকগণ উদ্বিগ্ন। গতকাল রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালিত হয় কিন্তু সারাদিন জনসাধারণ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে তা সচেতন নাগরিকদের বাকরুদ্ধ করেছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এসএসসি পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা বিলম্বে দেওয়ার ফলে ২২ জুলাই সচিবালয়সহ কয়েকটি স্থানে একদল সন্ত্রাসী চক্র আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে অবস্থান নিয়ে হিংসাত্মাক তান্ডব চলিয়েছে ।এতে যে বিষয়টি জাতির নিকট পরিস্কার হলো সামনের দিনে এধরণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীতে অরাজকতা মোকাবিলায় সরকার সামাল দিতে
পারবে কি না ? না পারার কথা কেন বলা হচ্ছে ? ৫ আগষ্টের পর হাসিনাসহ বড়ো জোর এক লক্ষ নেতাকর্মী ভারত এবং অন্যান্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে ।
ইতিমধ্যে সারাদেশে আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকা কয়েক লক্ষ নেতাকর্মী ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে প্রকাশিত । এখনো পুরনো এ দলে লক্ষ লক্ষ কট্টরপন্থী সমর্থক রয়েছেন যারা বংশ পরম্পরায় নিবিড় ভাবে এ দলের সাথে সম্পৃক্ত । তাদের নিকট শেখ মুজিবুর রহমান একটি আদর্শের মূর্ত প্রতীক হিসেবে রক্তের ধমনিতে বইছে । ক্ষমতায়
থাকাকালীন দল থেকে সুবিধা বঞ্চিত এরা ।
আমার একটি কথা এখনো মনে পড়ে ১৯৯৮ সালে বিএনপি ঘোষিত জনসভা কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে কয়েক লক্ষ নেতাকর্মীর ঢল নামে । সভাস্থল আউটার ষ্টেডিয়াম ময়দান এবং আশপাশের এলাকা।দুপর ১২ টায় সময় কোন এক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান স্টেডিয়ামের পূর্ব গেট অবস্থিত লাল ভবনে কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে উপস্থিত জননেতা মরহুম তরিকুল ইসলাম আসেন।" দপ্তরে এসেই এক সহযোদ্ধা কে প্রশ্ন " আওয়ামী সরকার পতনের পরিকল্পনা কি আছে !
উত্তরে সেই নেতা কয়েকটি পরিকল্পনার কথা বলতেই তিনি ধমক দিয়ে দুরও বাড়া থামেন " শুনেন কাল আওয়ামী লীগ নেত্রী ঘোষণা দিলো " আগামী কাল পল্টন ময়দানে যারা বঙ্গবন্ধুর নামে আত্মহুতি ""বা কোরবানি হতে ইচ্ছুক সে সকল আত্বত্যাগী নেতাকর্মী এসে যথাসময়ে উপস্থিত থাকবেন জয় হোক আপনাদের ত্যাগের মহিমা " জয় বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি । দেখবেন সারাদেশে থেকে অন্তত কয়েক হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়ে নেতার জন্য কুরবান হবে !
অনুরূপ কর্মসূচি কয়েক দিন পর আমাদের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষণা , যে সকল বিপ্লবী নেতাকর্মী সমর্থক স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেহত্যাগে আত্বহুতি দিবেন , সে সকল নেতাকর্মী যথাসময়ে পল্টন ময়দানে আসবেন !
আমরা সে সময় তারিখ মোতাবেক এই লাল ভবন কক্ষে বসে দেখবো কারা কারা উপস্থিত হলো !
এবার সবাই অবাক বিস্মিত ! একজন বললেন লিডার
বলেন সংখ্যা কত " তিনি কিছুক্ষণ চিন্তামগ্নে থেকে আবারও তাহার চিরাচরিত ডায়ালগ " দূর বাড়া আমি ত্যাগী হব কি না ভেবে দেখবো !
কথাটি অবান্তর মনে হলেও ২৩ সনের অক্টোবরের সেই বৃহত্তর জনসভার দিন জাতি কি দেখল? দুপুর দুইটার মধ্যে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী সমর্থক ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদপুষ্ট পুলিশ বাহিনীর হাত থেকে জীবন বাঁচাতে মরণপণ দৌড়ে পালাতে বাধ্য হলো , " পল্টনের গলিতে অবস্থান নেওয়া এক যুবক বললেন, “আরে ভাই আসেন বুলেটের সামনে দাঁড়াই " " একজন বললো ব্যাটা লাফালাফি বাদদে, দেখলি না মহাসচিব বক্তব্য দিবে শেষ বিকালে !
তিনি তো দুইটায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে পালালেন । যুবকটি ক্ষিপ্ত হয়ে উচ্চস্বরে বকাঝকা করে চলে গেল। সেদিন টিয়ার সেলের ঝাঁজালো দূষণ থেকে এবং নিজের জীবন বাঁচাতে দৌড়ে প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেই।ক্লাবে জাতীয়তাবাদী ঘরনার একদল সাংবাদিককে বলতে শুনেছি , “এভাবে না পালিয়ে সবাই প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত , কি আর এমন হবে? হয়তো কিছু নেতাকর্মী হতাহত বা নিহত হবে, তা হলে দেখবেন আজ রাতের মধ্যে হাসিনার পতন অনিবার্য।”সে দিনের দৃশ্য অবতারণায় আমি বার বার জননেতা মরহুম তরিকুল ইসলাম এর ৯৮" সালের কথা গুলো স্মরণ করি।
স্বাধীনতার পর থেকে জন্মগত আওয়ামী লীগের বহু সংখ্যক দুর্ধর্ষ ক্যাডারবাহিনী এখন রাজধানীতে , এরা যে কোন অপরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের ভিড়ে মহা তান্ডব চালিয়ে যাবে । এখনো প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা হর্তাকর্তারা তাদের শক্তি যোগাচ্ছে।
ইতিমধ্যে সরকার একটি নমুনা পদক্ষেপ " কাল রাতে প্রধান উপদেষ্টা তড়িঘড়ি করে বিএনপি , জামায়াত , ইসলামী আন্দোলন এবং বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নব গঠিত এনসিপি নেতাদের এক জরুরি বৈঠকে তলব করেন ।সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত এমন " যে কোন মূল্যে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শাসক গোষ্ঠী দেশে আর যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে ।”
বিগত ১৫ বছরে হাসিনা শাসন ব্যবস্থার বিরোধিতা করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে রাজপথে বাম-ডানসহ সকল ধর্মভিত্তিক দল জড়িত ছিলো ।
বুঝলাম বিএনপি জামায়াত এর বিশাল নেতাকর্মী সমর্থক রয়েছে । কিন্তু এনসিপি !
নিবন্ধন বিহীন এ দলের প্রতি জুলাই-- আগষ্ট বিপ্লবে যারা রাজপথে লড়াইয়ে অবতীর্ণ ছিলেন তাদের কতজনের সমর্থন আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আছে বর্তমান এনসিপিতে ! বলা বাহুল্য ইতিমধ্যে তাদের দু-চার জন নেতার ভূমিকা নিয়ে বড়ো দলগুলো রীতিমতো নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছে ।
তাদেরকে সরকার অতি গুরুত্ব দিয়ে আসছে কেন , কি এমন শক্তি তাদের , এনিয়ে সর্ব মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে ।
মনে ক্ষোভ পুষে রয়েছে হেফাজতে ইসলামের লক্ষ লক্ষ সমর্থক , বিএনপি সমমনা দল গুলোর বিগত ১৬ বছরের আন্দোলনে নিহত, গুমের স্বীকার ও শহিদ পরিবার , বিডিআর হত্যাকান্ড, সর্বশেষ জুলাই- আগষ্ট বিপ্লবে হাজার হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হলো এক ঐতিহাসিক বিজয় । সরকারের ভাবা উচিৎ যে, শুধু ঘোষণা দিলেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা লুকিয়ে যাবে ?
এমন ধারণা মহামান্য প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাগণ কস্মিণকালেও আমলে নিবেন না , কারণ ফ্যাসিষ্ট হাসিনার অনুগতরা তাদের নেত্রীর সার্বক্ষণিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে।আওয়ামী লীগের কর্মীদের বলা হয়েছে " ডঃ ইউনুসের সাথে গুটিকয়েক এসিপির নেতার পতন ঘটাতে হবে !
আশাকরি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান এ মূহুর্তে যা করনীয়, আপনার সেনাপ্রধানসহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রধানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিবেন ।
দ্রুত দেশের সকল ধরনের অপরাধ দমনে বিশেষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা দিয়ে তা কঠোরভাবে সন্ত্রাসীদের দমন করতে ।"দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে এ ব্যবস্থা ছাড়া আর কোন বিকল্প হতে পারে না।
ফরিদ আহমেদ রিপন
সমালোচক
২৩ জুলাই ২০২৫ইং