• ঢাকা |

শীতের সকালে পরিযায়ী পাখির কলতানে মুখর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

শামীম রহমান, রাজশাহী ব্যুরো: শীতের ভোরে কুয়াশার নরম চাদরে মোড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যেন এক জীবন্ত কবিতায় রূপ নেয়। ধীরে ধীরে জেগে ওঠে ক্যাম্পাস—পাখির অজস্র ডানার ঝাপটায়, ডানায় ডানায় ভোরের আলো ছুঁয়ে যায় গাছপালার ফাঁক। দূরদেশ থেকে আগত পরিযায়ী পাখির কলতানে মুখর হয়ে ওঠে চারদিক, তাদের অচেনা ভাষার ডাকে ভেঙে যায় সকালের নিস্তব্ধতা। হিমেল বাতাসের স্রোতে ভেসে আসে সেই সুর, যা কুয়াশাভেজা ভোরকে করে তোলে আরও মায়াবী, আরও প্রাণবন্ত।
সাইবেরিয়া, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার নীল আকাশ পেরিয়ে আসা এসব অতিথি পাখির আগমন প্রতিবছরই উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে রাবিতে। প্রকৃতির নিজ হাতে সাজানো এই দৃশ্য শীত মৌসুমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিণত করে এক বিশাল পাখির অভয়ারণ্যে। রঙ, সুর আর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস।
গাছগাছালিতে মোড়া রাবি সারা বছরই নানা প্রজাতির পাখির আবাসস্থল। তবে শীত এলেই বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে পরিযায়ী পাখিরা। স্থানীয় পাখির সঙ্গে মিশে তারা সৃষ্টি করে এক বৈচিত্র্যময় পাখির রাজ্য, যা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় শীতকালকে করে তোলে আলাদা ও প্রাণবন্ত।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটেছে ক্যাম্পাসে। তাদের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রান্ত। জলাশয়কেন্দ্রিক এসব অতিথি পাখির বেশির ভাগই হাঁসজাতীয়। এর মধ্যে ছোট সরালি বেশি দেখা গেলেও রয়েছে বড় সরালি, ল্যাঞ্জা হাঁস, খুঁতে হাঁস ও ঝুঁটি হাঁস। কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবে দেখা মিলছে পেরেগ্রিন ফ্যালকন নামের বিরল প্রজাতির পাখিরও, যারা প্রায় পাঁচ মাস ক্যাম্পাসে অবস্থান করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালেদা জিয়া, তাপসী রাবেয়া, রহমতুন্নেছা ও রোকেয়া হলের পেছনের পুকুর, শামসুজ্জোহা হলসংলগ্ন জলাশয়সহ বিভিন্ন স্থানে বসেছে পরিযায়ী পাখির মেলা। দিনভর তারা উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে, আবার কখনো জলাশয়ে নেমে করছে জলকেলি। এই দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমছে ক্যাম্পাসজুড়ে।
পরিযায়ী পাখি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আমিনুজ্জামান মো. সালেহ্ রেজা জানান, সাধারণত নভেম্বরের শেষ দিকেই এসব পাখি রাবিতে আসে। তার মতে, আগের বছরের তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা বেশি। তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনেকেই ঢিল ছুড়ে বা বিরক্ত করে উড়ন্ত পাখির ছবি তুলছেন, যা পাখিদের জন্য হুমকিস্বরূপ। পাখিদের নিরাপদ অভয়ারণ্য নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে তাদের আগমন ব্যাহত হতে পারে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ❝ক্যাম্পাসে পাখি হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিযায়ী পাখির অবাধ বিচরণে যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। পাখিদের প্রতি কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা ক্ষতিকর আচরণ সহ্য করা হবে না বলেও জানান তিনি❞।