ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার দৌলতখান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ সাকের হাওলাদার এর পুত্র মাকসুদুর রহমান হাওলাদার এর জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ আইচ থানাধীন চর মানিকা ইউনিয়নের করিম পাড়া এলাকার ফিরোজ কিবরিয়া জাল দলিল তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসময় ভুক্তভোগী মাকসুদুর রহমান বলেন, দক্ষিণ আইচা থানাধীন চর মানিকা ইউনিয়নের আবুয়াল হোসেন ও সৈয়দা খাতুন থেকে রাধা বল্লভ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিগত ১০ মে ১৯৮৪ খ্রিস্ট তারিখে ১৮৮২ এবং ১৮৮১ নং দলিল মূলে দুই একর জমিতে আমি এবং আমার ছোট ভাই শামীম আহমেদ বাবুল মালিক নিযুক্ত থাকিয়া নামজারি ও খাজনা খারিজ করে ভোগ দখল করতে থাকি। কিন্তু উক্ত আসামী ফিরোজ কিবরিয়া পরিকল্পিত উপায়ে জমির দাতা আবুয়াল হোসেন এবং উক্ত খতিযানের রেকর্ডীয় মালিক মেহের আফজুন এর পরিবর্তে অন্য লোককে দাতা সাজাইয়া ১৩৯১ নং দলিল মূলে ২৫ শতাংশ জমি বিগত ১১ মার্চ ১৯৯৭ খ্রীস্ট তারিখে এবং ১৪৫২ নং দলিল মূলে ৭৫ শতাংশ জমি বিগত ১৫ মার্চ ১৯৯৭ খ্রীস্ট তারিখে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে নিজ নামে দলিল করিয়া দীর্ঘ দিন গোপন রাখে। মাকসুদুর রহমান আরো বলেন, উক্ত ফিরোজ কিবরিয়া জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রায় ২৫ বছর পর ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে চরফ্যাশন সহকারি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উক্ত দলিল উপস্থাপন করিলে আমরা বিষয়টি অবগত হই। মূলত উক্ত দুইটি দলিলের দাতা আবুয়াল হোসেন ও মেহের আফজুন যথাক্রমে ১৯৮৬ সালের আগস্ট মাসে এবং ১লা জানুয়ারী ১৯৯৬ সালে মৃত্যুর বরণ করেন। মাকসুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মৃতকে জীবিত দেখাইয়া জাল দলিল করায় ফিরোজ কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিগত ২২ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি আর মামলা নং ২৯/ ২০২৪ দাখিল করি। উক্ত মামলায় বিবাদী ফিরোজ কিবরিয়া পরপর একাধিক বার আদালতে অনুপস্থিত থাকায় ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাতে দক্ষিণ আইচা থানাধীন চর মানিকা ইউনিয়নের করিম পাড়া এলাকায় তার শ্বশুর নুরুল ইসলাম বয়াতির বাড়ি থেকে তাকে আটক করে থানা পুলিশ। দক্ষিণ আইসা থানার ওসি ( ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো আহসান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফিরোজ কিবরিয়ার নামে আদালতের ওয়ারেন্ট ছিল। আমরা আদালতের আদেশ তামিল করেছি। ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাতে এস আই প্রতাপ চন্দ্র দাস এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয় এবং আদালতে প্রেরন করা হয়।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, তাকে ৭ জানুয়ারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনারীর জন্য উঠানো হয়। আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেলে প্রেরনের নির্দেশ দেয়।
এদিকে এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দণ্ডবিধি এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির দাবি করেন ভুক্তভোগী বাদী মাকসুদুর রহমান।