• ঢাকা |

ইসলামী রাষ্ট্র কেন অপরিহার্য? (পর্ব:১)


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ফিরোজ মাহবুব কামাল

ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত না হলে ব্যর্থ হয় ইসলামের মূল মিশন

ইসলামের এজেন্ডা শুধু আল্লাহ তায়ালা, নবী-রাসূল, আখেরাত ও কুর’আনের উপর বিশ্বাস নয়। শুধু নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত ও দোয়া-দরুদ পালন নয়। বরং প্রতিষ্ঠা দিতে হয় ইসলামের রাজনৈতিক, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক, বৈচারিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণের সকল কুর’আনী নির্দেশনাকে। নবীজী (সা:) তাঁর ২৩ বছরের নবুয়ত কালে সে পূর্ণাঙ্গ ইসলামই প্রতিষ্ঠা দিয়ে গিয়েছিলেন। খোলাফায়ে রাশেদার আমলে সাহাবাগণ বেঁচেছিলেন সে পূর্ণাঙ্গ ইসলামের পূর্ণ পালন নিয়ে। মুসলিম হওয়ার অর্থই হলো সে দায় নিয়ে আমৃত্যু বাঁচা। নইলে বাঁচাতে চরম ফাঁকিবাজি হয়; আর সে ফাঁকিবাজির নাম হলো মুনাফিকি।

পূর্ণাঙ্গ ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজটি শুধু মসজিদ-মাদ্রাসা গড়লে ও ওয়াজ মহফিল করলে হয়না। শুধু নামাজী, রোজাদার ও হাজীদের সংখ্যা বাড়ালেও হয় না। সে জন্য অতি অপরিহার্য হলো ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। নইলে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালনের বিষয়টি কেবল কিতাবেই থেকে যায়। নবীজী (সা:)কে তাই মদিনায় হিজরতের পর নিজের জন্য গৃহ নির্মাণ না করে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছেন। এবং সে রাষ্ট্রের সুরক্ষায় আমৃত্যু জিহাদে লিপ্ত থেকেছেন। নবীজী (সা:) ২৮টি যুদ্ধে নিজে শরীক হয়েছেন এবং ৭৩টি যুদ্ধ নিজে শরীক না হয়ে পরিচালনা করেছেন। তবে নবীজী (সা:) যা কিছু করেছেন সেটি তাঁর নিজের আবিষ্কার ছিল না, বরং সেগুলি করেছেন মহান আল্লাহর তায়ালার নির্দেশে। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের কাছে এতোই গুরুত্ব পেয়েছিল যে, মুসলিমদের জান, মাল, শ্রম ও সময়ের সবচেয়ে বেশী খরচ হয়েছিল ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা দেয়ার কাজে। বস্তুত ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং সে রাষ্ট্রর সুরক্ষার জিহাদ নিয়ে বাঁচাই নবীজী (সা:)’য়ের শ্রেষ্ঠ সূন্নত। কিন্তু আজ সে পবিত্র সূন্নত মুসলিম জীবনে বেঁচে নাই। ফলে বিশ্বের কোথাও বেঁচে নাই নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠিত সে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম।

মুসলিম বিশ্বে আজ মসজিদ ও মাদ্রাসার সংখ্যা বহু লক্ষ। কুর’আনের তাফসির এবং ওয়াজ মাহফিলও হচ্ছে বিপুল সংখ্যায়। কিন্তু সেগুলি মুসলিম উম্মাহর ভাগ্য বদলায়নি। সভ্য মানব নির্মাণের কাজটি হয়নি। সুরক্ষা দেয়নি স্বাধীনতা ও জান-মালের নিরাপত্তার। আরো দ্বিগুণ বা তিনগুণ মসজিদ-মাদ্রাসা গড়লেও ভাগ্য বদলাবে না; বাড়াবে না মুসলিম উম্মাহর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা। কারণ, এ কাজগুলি মসজিদ-মাদ্রাসার নয়। এ কাজগুলি একান্তই রাষ্ট্রের। মুসলিমদের আজকের দুর্গতির কারণ মসজিদ-মাদ্রাসার কমতি নয়, বরং ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে চরম ব্যর্থতা। আজ বিশ্বের মানচিত্রে অর্ধশতাধিক মুসলিম রাষ্ট্র; কিন্তু সে রাষ্ট্রগুলির নির্মাণে গুরুত্ব পায়নি নবীজী (সা:)’য়ের সূন্নত। বরং গুরুত্ব পেয়েছে বর্ণ, ভাষা ও অঞ্চল ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ এবং ইসলাম থেকে দূরে সরার সেক্যুলার নীতি। ফলে চরম অবাধ্যতা হয়েছে নবীজী (সা:)‌’যের সূন্নতের সাথে।

নবীজী (সা:)’য়ের বহু সূন্নতই মুসলিম সমাজে পালিত হয়। তাঁর জীবনের উপরও আলোচনা হয়। তবে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মপ্রচারক রূপে তিনি যেরূপ প্রচার পেয়েছেন, সেরূপ প্রচার সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনির্মাতা, সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান, সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক ও সর্বশ্রেষ্ঠ দুর্বৃত্তি নির্মূলকারী রূপে পাননি। মানুষের তাঁর লেবাসের ও ইবাদতের সূন্নত যতটা গুরুত্ব পায়, ততটা গুরুত্ব পায়না তাঁর রাষ্ট্র নির্মাণের সূন্নত। আজকের মুসলিমদের ইসলাম পালনে এখানেই সবচেয়ে বড় শূণ্যতা ও ব্যর্থতা। পালিত হয় না তাঁর রাষ্ট্র নির্মাণের সূন্নত।

অথচ নবীজী (সা:)’য়ের  হাতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজটি সে সময় না হলে এবং সাহাবাদের হাতে সে রাষ্ট্র আরো বৃহৎ ও শক্তিশালী না হলে ব্যর্থ হয়ে যেত মানব সৃষ্টিকে নিয়ে মহান রবের এজেন্ডা। এবং মুসলিমগণ ব্যর্থ হতো পূর্ণ ইসলাম পালনে। কারণ, পূর্ণ ইসলাম পালনের কাজটি স্রেফ নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত ও দোয়া-দরুদ পালনের মধ্য দিয়ে হয়না। পূর্ণ দ্বীন পালনের কাজটি স্রেফ মসজিদ-মাদ্রাসা ও পীরের খানকাতে বসেও হয়না। শরিয়া আইনের প্রতিষ্ঠা দিতে পুলিশ ও আদালত লাগে। জনগণকে কুর’আনী জ্ঞানে শিক্ষিত করতে লাগে হাজার হাজার রাষ্ট্রীয় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সহযোগিতা লাগে দুর্বৃত্তের নির্মূল ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠায়।

পৃথিবী পৃষ্ঠে মানব জাতির ইতিহাস বহু হাজার বছরের। কিন্তু সে ইতিহাস ব্যর্থতায় ভরপুর। অধিকাংশ সময়ই মানুষ ব্যর্থ হয়েছে সভ্য ব্যক্তি ও সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে। শাসিত হয়েছে মানব রূপী নৃশংস পশুদের দ্বারা। তাই মানব সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডাটি গৃহ নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ, কৃষি বিপ্লব বা শিল্প বিপ্লব নয়, বরং সেটি হলো সভ্য মানব ও সভ্য রাষ্ট্রের নির্মাণের। নবীজী (সা:)কে তাই স্রেফ নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত শেখাতে প্রেরণ করা হয়নি, বরং প্রেরিত হয়েছেন সভ্য মানব ও সভ্য রাষ্ট্রের নির্মাণের কাজটি হাতে কলমে শিখিয়ে দিতে। মদিনায় ১০টি বছর রাষ্ট্রপ্রধান থাকা কালে সাহাবাদের সেটি শিখিয়েছেন। এবং শিখিয়েছেন সর্বজ্ঞানী মহান রব’য়ের নির্দেশ মোতাবেক। ফলে নির্মিত হয়েছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র, সংস্কৃতি ও সভ্যতা।

সভ্য মানব নির্মাণে ইসলামী রাষ্ট্রের বিকল্প নাই

সভ্য মানব তো তারাই যারা প্রকৃত ঈমানদার ও ওহীর জ্ঞানে আলোকপ্রাপ্ত। বেঈমানগণ নানা কর্ম ও নানা পেশায় দক্ষ হতে পারে, কিন্তু কখনোই তারা সভ্য মানব হতে পারে না। সভ্য মানব হওয়ার অর্থ উন্নত বাড়ি, দামি গাড়ি, আধুনিক অস্ত্র ও জমকালো পোষাক পরিচ্ছদের মালিক হওয়া নয়। নানা স্কিলের অধিকারি হওয়াও নয়। বহু পশু-পাখির নানা রূপ স্কিল থাকে, সেজন্য কি তাদের সভ্য বলা যায়? সভ্য মানব তো তারাই যাদের থাকে ন্যায়-অন্যায়, সত্য-অসত্য যাচাইয়ের সামর্থ্য। সে সামর্থ্য কবিতা, গল্প-উপন্যাস, অংক বা বিজ্ঞানের বই পড়ে অর্জিত হয় না। বরং সে জন্য অপরিহার্য হলো ওহীর জ্ঞান তথা কুর’আনের জ্ঞানের। সভ্য মানব রূপে বেড়ে উঠার ছবক পাওয়ার জন্য এটিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ টেক্সটবুক। সে সামর্থ্য তাই কোন বেঈমানের থাকতে পারে না। পাশ্চাত্য সভ্যতার নৈতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ এই অসভ্য বেঈমানগণ। তারা যে কতটা অসভ্য ও বর্বর সেটির প্রমাণ রেখেছে বিগত দুটি বিশ্বযুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি মানুষকে হত্যা করে। প্রমাণ রেখেছে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপ করে। সে অসভ্যতার প্রমাণ রেখেছে আমরিকা থেকে রেড ইন্ডিয়ান, অস্ট্রেলিয়া থেকে অ‌্যাব অরিজিন এবং নিউজিল্যান্ড থেকে মাউরিদের নির্মূল করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সে অসভ্যতার দাপট এখনো দেখিয়ে চলেছে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে। আন্তর্জাতিক ছিনতাই ও দস্যুবৃত্তিই তাদের পররাষ্ট্র নীতি। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের হাইজ্যাক করছে। বর্ণবাদ, বর্ণবাদী নির্মূল, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের ন্যায় বিষাক্ত মতবাদের জন্ম তো এই অসভ্য বেঈমানদের মগজ থেকেই।     

সভ্য মানব নির্মাণের কাজে রাষ্ট্রের বিকল্প নাই। রাষ্ট্র ইসলামী হলে প্রবল বিপ্লব আসে সৎ, যোগ্য ও ঈমানদার মানুষ গড়ার কাজে। রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, পুলিশ, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা ও প্রকাশনা সে অভিন্ন লক্ষ্যে একত্রে কাজ করে।

তাওহিদ, ইবাদত ও হালাল-হারামের শিক্ষা সকল নবী-রাসূলই দিয়েছেন। বহু দার্শনিক ও বহু চিন্তাবিদ বড় বড় নীতি কথা, মানবতা ও উচ্চতর রাষ্ট্র নির্মাণের কথা বলেছেন। কিন্তু তাদের সে সব দর্শন ও নীতিকথা স্রেফ কিতাবেই রয়ে গেছে। কিন্তু সমগ্র মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী সংখ্যক চরিত্রবান মানব নির্মাণে সফল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন একমাত্র মহান নবীজী (সা:)। তাঁর সে সাফল্যের মূলে ছিল, তিনি সফল হয়েছিলেন ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে। অন্যরা একাজে ব্যর্থ হ্ওয়ার কারণে তাদের দর্শন ও তত্ত্বকথা শুধু কিতাবেই রয়ে গেছে। এজন্যই নবীজী (সা:)’য়ের পরিচিতি সাইয়েদুল মুরসালিন তথা নবী-রাসূলদের নেতা রূপে। তিনি মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। তাঁর হাতে স্থাপিত রাষ্ট্রটি বেড়ে উঠেছিল বিশ্বশক্তি রূপে এবং সে রাষ্ট্রের বুকে নির্মিত হয়েছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা ও সংস্কৃতি।

অপর দিকে রাষ্ট্র দুর্বৃত্তদের হাতে পড়লে সেটি দুর্বৃত্ত উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়। বাংলাদেশে সেটি দেখা গেছে মুজিব ও হাসিনার শাসনামলে। তখন দুর্বৃত্ত উৎপাদনের কাজ এতোটাই বিশাল আকারে হয়েছিল যে বাংলাদেশ দুর্বৃত্তিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয়েছে। এমন দেশে কখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় না, বরং প্রতিষ্ঠা পায় বদমায়েশতন্ত্র। বদমায়েশ তো তারাই যাদের মায়েশ (অর্থ: জীবিকা) হলো বদ (অর্থ: খারাপ তথা বর্বর) তথা দুর্বৃত্তি। বার বার নির্বাচন হলেও তারাই বিজয়ী হয়। কারণ, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের সর্বত্র তো এই বদমায়েশদেরই দখলদারি। ফলে নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়।         
                   
শুরুটি হতে হয় সভ্য ব্যক্তি নির্মাণ দিয়ে

সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের শুরুটি সভ্য ব্যক্তি নির্মাণ দিয়ে হতে হয়। নইলে সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটিও হয় না। নবীজী (সা:)’য়ের সভ্য ব্যক্তি নির্মাণের কাজের শুরুটি হয়েছিল কুর’আন থেকে জ্ঞান অর্জনকে ফরজ করে। কুর’আনী জ্ঞানের অস্ত্র নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ শুরু হয়েছিল চেতনার ভূমি থেকে জাহিলিয়াতের নির্মূলে। ফলে প্রতিটি মুসলিম পরিণত হয়েছিল ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের সার্বক্ষণিক সৈনিকে। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত হলে বেগবান হয় এবং সহজতর হয় সভ্য ব্যক্তি নির্মাণের কাজ। সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের কাজ এবং সভ্য ব্যক্তি নির্মাণের কাজ -এ দুটির একটি অপরটির পরিপূরক। অর্থাৎ এ দুটি কাজের একটি বিফল হলে আরেকটিও বিফল হয়। আর যারা এ দুটি লক্ষ্য অর্জনে সফল হয় একমাত্র তারাই সফল হয় উচ্চতর সভ্যতার নির্মাণে। নবীজী (সা:) এ দুটি কাজেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাস গড়েছেন। ফলে তাঁর হাতে নির্মিত হয়েছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। এবং তাতে সহজ হয়েছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রের নির্মাণ।

তাই কোন জনগোষ্ঠি সভ্য রাষ্ট্র গড়তে ব্যর্থ হলে বুঝতে হবে তারা ব্যর্থ হয়েছে সভ্য মানুষ রূপে বেড়ে উঠতে। নবীজী (সা:)’য়ের সাফল্যের কারণ, তিনি যা কিছু করেছেন -তা করেছেন মহান রব’য়ের দেখানো পথ অনুসরণ করে। মহান রব তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব সৃষ্টিকে শ্রেষ্ঠতার যে পর্যায়ে দেখতে চান, নবীজী (সা:) বস্তুত সেখানেই নিয়ে গেছেন। দৈহিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মহান প্রতিপালক নির্মল আলো-বাতাসের পাশাপাশি নানারূপ খাদ্য-পাণীয় ও ফলমূল দিয়েছেন। আর নৈতিক সুস্বাস্থ্যের জন্য দিয়েছেন জ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ টেক্সটবুক। সে টেক্সটবুকটি হলো পবিত্র কুর’আন। মুসলিমের নৈতিক স্বাস্থ্যে পুষ্টি জোগাতে নামাজ-রোজা ফরজ করার আগে মহান আল্লাহতায়ালা কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন। জ্ঞানার্জনের এ ফরজ আদায় না হলে অন্য ফরজ ইবাদতগুলি সুফল দেয়না।

কুর’আনী জ্ঞান হলো মানব চরিত্রের ভিত। ভিন না গড়ে যেমন ইমারত নির্মাণ করা যায় না, তেমনি কুর’আনী জ্ঞানের ভিত না থাকলে ব্যক্তির চরিত্র নির্মিত হয়না। তখন শুরু হয় নৈতিক স্বাস্থ্যহীনতা। নৈতিক স্বাস্থ্যহীনতার মূল লক্ষণ হলো ব্যক্তির জীবনে বেঈমানী, দুর্বৃত্তি এবং উম্মাহর জীবনে বিভক্তি। বেঈমানী নিয়ে সুস্থ ও নীতিবান মানব রূপে বেড়ে উঠা অসম্ভব। বুঝতে হবে, ঘুষখোর, সূদখোর, প্রতারক দুর্বৃত্তগণও নামাজী, রোজাদার, হাজী, দরবেশ ও পীর হতে পারে, কিন্তু তারা কখনোই ঈমানদার হতে পারে না। তেমনি মসজিদ মাদ্রাসা যতই নির্মিত হোক, মুসলিমদের ভূ-রাজনৈতিক বিভক্তি দেখে সুষ্পষ্ট বুঝা যায় ব্যর্থতাটি এখানে কুর’আনী জ্ঞান নিয়ে বেড়ে উঠায়। অভাব এখানে ঈমানদারীতে। ব্যর্থতা তখন প্রকট ভাবে দৃশ্যমান হয় ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ক্ষেত্রে। মুসলিমগণ আজ সে ব্যর্থতার মধ্যেই হাবুডুবু খাচ্ছে।