তন্ময় আলমগীর, কিশোরগঞ্জ: দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক পেলেন কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার বরেণ্য পালাশিল্পী ইসলাম উদ্দিন পালাকার।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে পদক ও সম্মাননা তুলে দেন।
'দীর্ঘদিন সাধনা করেছি। এটা আমার পালাকার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন’- পদক পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান ইসলাম উদ্দিন।
দীর্ঘদিন ধরে পালাগানের সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী জানান, তার শিল্পীজীবনের শুরুটাই ছিল পালা দিয়ে। সেই পথচলার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদককে তিনি দেখছেন ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে। তার ভাষায়, এত বছরের পালাগানের জীবনে আজকের দিনের মতো গৌরবের মুহূর্ত আর আসেনি।
তবে এ স্বীকৃতিকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, এই পদক প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে পালাগান দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে সর্বোচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হলো।
লোকসংগীতচর্চায় যুক্ত অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু একজন শিল্পীর সম্মান নয়, এটি ঐতিহ্যবাহী পালাগানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
১৯৬৯ সালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ গ্রামে জন্ম ইসলাম উদ্দিনের। মক্তব পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও ছোটবেলা থেকেই যাত্রাপালা ও পালাগানের প্রতি ঝোঁক ছিল। বড় দুই ভাই ‘ঝুমুর যাত্রা’ দলে অভিনয় করতেন—তাদের দেখেই শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তিনি।
১৯৮১ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘কাশেম মালা’ যাত্রাপালায় অভিনয়ের মাধ্যমে তার শিল্পীজীবনের সূচনা। পরে ওস্তাদ কুদ্দুস বয়াতির শিষ্যত্ব গ্রহণ করে পালাগানের দীক্ষা নেন। ‘গুলে হরমুজ’ পালা দিয়ে মূল গায়েন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে নিজস্ব দল গড়ে স্বতন্ত্র ধারায় পথচলা শুরু করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছেও নতুনভাবে পরিচিতি পান ইসলাম উদ্দিন। ২০২৩ সালে কোক স্টুডিও বাংলা-এর ‘দেওরা’ গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
হাওর–বিলের গ্রামীণ পরিবেশ থেকে শুরু করে জাতীয় মঞ্চ—দীর্ঘ সাধনা, ওস্তাদের সান্নিধ্য আর নিরবচ্ছিন্ন চর্চা পেরিয়ে আজকের এই অর্জন ইসলাম উদ্দিন পালাকারের শিল্পজীবনে এক উজ্জ্বল মুকুট হয়ে থাকল।