এস এম মেহেদী হাসান: ২০১২ সাল থেকে সৌদি আরবে একই কফিলের অধীনে কর্মরত ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি মুজিব। পরিবারের স্বপ্ন পূরণ, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়া এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন তিনি।
ডেথ সার্টিফিকেটে উল্লেখ রয়েছে, কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতালে টানা ৩৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মুজিব মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হলো— মৃত্যুর প্রায় ৪০ দিন পর পরিবারের কাছে খবর পৌঁছানো হয় এবং জানানো হয় তিনি নাকি মাত্র দুই দিন আগে মারা গেছেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মরহুম মুজিবের কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কফিল প্রদান করেনি। তার বকেয়া বেতন ও পাওনা অর্থ এখনো দেওয়া হয়নি। দেশে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে মুজিব কেনাকাটা করেছিলেন, কিন্তু সেই বিষয়েও কোনো হিসাব বা সহযোগিতা করা হয়নি। মৃত্যুর পর কফিল লাশ দেখতেও যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুমতি সাপেক্ষে সৌদি সরকার মক্কায় মরহুম মুজিবের দাফন সম্পন্ন করে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কফিল ফোন রিসিভ করেনি বলে জানা গেছে।
একজন প্রবাসী শ্রমিক বছরের পর বছর পরিশ্রম করার পর মৃত্যুর পরও যদি তার প্রাপ্য সম্মান, তথ্য ও অধিকার নিশ্চিত না হয়, তবে তা শুধু একটি পরিবারের নয়— সমগ্র প্রবাসী সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত, মরহুম মুজিবের সকল পাওনা আদায় এবং দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি— প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
যেন আর কোনো প্রবাসী শ্রমিকের সঙ্গে এমন নির্মম ও অমানবিক ঘটনা না ঘটে।