আব্দুল গফুর মন্ডল: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় বিরোধ দ্রুত, স্বল্প ব্যয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই। তাঁর উদ্যোগে সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ সহজ হয়েছে, কমেছে আদালতমুখী জটিলতা এবং বৃদ্ধি পেয়েছে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের রোববার, মঙ্গলবার ও বুধবার সকাল ১১টা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযোগ দাখিলের পর দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হয় এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষ অল্প সময় ও নামমাত্র খরচে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন।
গ্রাম আদালত পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এতে আবেদনকারী ও বিবাদী পক্ষ থেকে দুজন করে প্রতিনিধি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নারী সদস্য অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক। উভয় পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলোচনার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগতভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।
গ্রাম আদালতে ফৌজদারি মামলায় আবেদন ফি ১০ টাকা এবং দেওয়ানি মামলায় ২০ টাকা। আদালতের মাধ্যমে প্রেরিত মামলায় কোনো ফি দিতে হয় না। অভিযোগ গ্রহণের পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। এছাড়া আইন অনুযায়ী নির্ধারিত আর্থিক সীমার মধ্যে দেওয়ানি বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয়।
রোববার (১২ জুলাই) কয়েকটি মামলার নিষ্পত্তি শেষে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই বলেন, “গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে। এতে মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকছে।”
তিনি আরও বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা প্রাচীর ও গ্রেড নির্মাণ, বিভিন্ন সড়কের উন্নয়নসহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ধুবিল ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্রী স্বপন কুমার, হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মোছা. সাবানা খাতুন, উদ্যোক্তা মো. রমজান আলী, ইউপি সদস্য মো. আতাউর রহমান, মো. মাসুদ রানা, মো. ছানোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ আলী, মোছা. মনোয়ারা খাতুন, মোছা. ফাহিমা খাতুন, মোছা. মইফুল খাতুনসহ ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনার ফলে জমিজমা, পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিরোধ সহজেই মীমাংসা হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে গ্রাম আদালত।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে তৃণমূল পর্যায়ে বিচারপ্রাপ্তি আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারেও গ্রাম আদালতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।