ফিরোজ মাহবুব কামাল:
সর্ববিধ শত্রু শক্তির বিরুদ্ধে ঈমানদারের প্রথম যুদ্ধটি হলো বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ। রাজনৈতিক জিহাদ এবং সশস্ত্র জিহাদ আসে অনেক পরে। সেরূপ একটি বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ করতে হয় নিজের জাহেল নফসের বিরুদ্ধেও। প্রতিটি ঈমানদারের জীবনে এ যুদ্ধটি বিরামহীন। এ জিহাদের মূল অস্ত্রটি হলো পবিত্র কুর’আন। যার হাতে কুর’আন নাই অর্থাৎ বুঝতে অক্ষম পবিত্র কুর’আনের বাণী, এমন ব্যক্তিকে বাঁচতে বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গণে পরাজয় নিয়ে। তার পক্ষে অসম্ভব হয় নিজের মনের অঙ্গণ থেকে জাহিলিয়াতের নির্মূল। এমন ব্যক্তি নামাজী, রোজাদার ও হাজী হলেও ব্যর্থ হয় ঈমানদার বা মোত্তাকী হতে। এমন ব্যর্থ ঈমানদারদের নিয়ে মহান রব’য়ের ভাষ্য হলো:
قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا ۖ قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَـٰكِن قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ ۖ
অর্থ: “মরুবাসী আরবরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। বলুন হে মহম্মদ, তোমরা ঈমান আনোনি; বরং বলো, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে এখনো ঈমান প্রবেশ করেনি।” –(সুরা হুজরাত, আয়াত ১৪)।
ঈমান তো একমাত্র তাদের হৃদয়েই প্রবেশ করে যাদের হৃদয়ের প্রবেশ করে কুর’আনের জ্ঞান। জাহেলদের হৃদয়ে কুর’আনের জ্ঞান থাকে না, ফলে তাদের পক্ষে ঈমানদার হওয়াও সম্ভব হয়না। এ বিষয়টি মহান আল্লাহতায়ালার চেয়ে আর কে বুঝেন? এজন্যই তিনি ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করার ১১ বছরে আগে ফরজ করেছিলেন কুর’আন বুঝাকে। কিন্তু আজকের মুসলিমদের সবচেয়ে ব্যর্থতাটি কুর’আন বুঝায় তথা কুর’আন নিয়ে যুদ্ধে। তারা কুর’আন তেলাওয়াতে বহু ঘন্টা ব্যয় করতে রাজী, কিন্তু কুর’আন বুঝতে রাজী নয়। তারা বিভিন্ন বিদেশী ভাষা শিখতে রাজী, কিন্তু রাজী নয় কুর’আনের ভাষা শিখতে। অথচ কুর’আন বুঝার তীব্র আগ্রহ থাকায় মিশর, ইরাক, সিরিয়া, সুদান, মরক্কো, আলজিরিয়া, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, মৌরতানিয়ার মত বহুদেশের জনগণ মাতৃভাষা কবরে পাঠিয়ে কুর’আনের ভাষা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সে আগ্রহ আজ এমন কি আরবদের মাঝেও বিলুপ্ত হয়েছে। কুর’আন বুঝায় ব্যর্থতাই মুসলিম উম্মাহর সকল ব্যর্থতার মূল কারণ। তারা ঈমানদার রূপে বেড়ে উঠতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে তেমনি ব্যর্থ হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে। ফলে মুসলিম উম্মাহকে বাঁচতে হচ্ছে সর্বক্ষেত্রে বিশাল পরাজয় নিয়ে।
সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালার ভাষায় মু’মিনের সে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদটি হলো “জিহাদান কবিরা” তথা বড় জিহাদ। কাফিরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র শুরুর আগে নবীজী (সা:) ১৩টি বছর মক্কায় এই বড় জিহাদটি লড়েছেন। পবিত্র কুর’আনে সে জিহাদের হুকুম এসেছে নিচের আয়াতে:
فَلَا تُطِعِ ٱلْكَـٰفِرِينَ وَجَـٰهِدْهُم بِهِۦ جِهَادًۭا كَبِيرًۭا
অর্থ: “অতঃপর তোমরা কাফিরদের অনুসরণ করবে না; এবং তাদের বিরুদ্ধে এই কুর’আন দিয়ে বড় জিহাদটি করো।” –( সুরা ফুরকান, আয়াত ৫২)।
উপরিউক্ত আয়াতে ঘোষিত হয়েছে, কাফিরদের অনুসরণ করা হারাম। কাফিরদের অনুসরণ করার অর্থ হলো তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতবাদ, দর্শন, বুদ্ধিবৃত্তি বা সংস্কৃতির অনুসরণ। প্রশ্ন হলো, যে ব্যক্তি কুর’আন পড়লো না এবং কুর’আন বুঝলো না -এমন ব্যক্তি কাফিরদের বিরুদ্ধে সে বড় জিহাদটি করবে কি করে? সে তো বুদ্ধিবত্তিক অস্ত্রে নিরস্ত্র। এমন নিরস্ত্র ব্যক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে কাফিরদের হাতে পরাজিত হবে, আত্মসমর্পণ করবে এবং খড়কুটোর ন্যায় কাফিরদের সৃষ্ট মতবাদের স্রোতে ভেসে যাবে -সেটিই তো স্বাভাবিক। বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশগুলিতে তো অবিকল সেটিই ঘটেছে। এসব দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্র, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, মিডিয়া কর্মী ও বুদ্ধিজীবী সমাজতন্ত্র, কম্যুনিজম, জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, পুঁজিবাদ ও সেক্যুলারিজমের ন্যায় কুফুরি মতবাদের স্রোতে কচুরিপানার ন্যায় ভেসে গেছে।
বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের ন্যায় বড় জিহাদটিতে যারা বিজয়ী হয়, একমাত্র তারাই শত্রু শক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক এবং সশস্ত্র লড়াইয়ের জিহাদে বিজয়ী হয়। আজ মুসলিম দেশগুলিতে ইসলাম বিরোধী শক্তির মোকাবেলায় রাজনৈতিক জিহাদটি দুর্বল। এবং সৈনিক নাই সশস্ত্র যুদ্ধে। এর কারণ, বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের বড় জিহাদে বিজয়ী হয়েছে এমন মুসলিমদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ফলে তারা নাই রাজনৈতিক ও সশস্ত্র জিহাদের ন্যায় ছোট জিহাদে। পবিত্র কুর’আনের জ্ঞানচর্চা না হওয়ার কারণে তারা বিপুল সংখ্যায় পরাজিত হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদে। অথচ শত্রুদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক জিহাদে এবং রণাঙ্গণের সশস্ত্র জিহাদের কাজটি কখনোই বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদে পরাজিতদের দিয়ে হয় না।
আল কুর’আনই হলো পৃথিবী পৃষ্ঠে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। মহান রব’য়ের দেয়া এ বইয়ের লক্ষ্য মানুষকে যেমন জান্নাতের পথ দেখানো, যেমন সভ্য মানব ও সভ্য রাষ্ট্র গড়ায় পথ দেখানো। সফলতার সে পথই হলো সিরাতাল মুস্তাকীম। ফলে এ পবিত্র কুর’আন পরিত্যাগের অর্থ যেমন জান্নাতের পথ পেতে ব্যর্থ হওয়া, তেমনি সভ্য মানব ও সভ্য রাষ্ট্র ও সমাজ গড়তে ব্যর্থ হওয়া। বাংলাদেশের মানুষ কুর’আন পড়ে, কিন্তু বুঝে না। ফলে সভ্য মানব ও রাষ্ট্র গড়ায় তাদের ব্যর্থটি বিশাল। বরং রেকর্ড গড়েছে দুর্বৃত্তিতে তথা বদমায়েশীতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয়ে। জান্নাতে চলার পথে তারা কতটা সফল হচ্ছে সেটি তারা বুঝবে মৃত্যুর পর। তবে তার পথটি সিরাতাল মুস্তাকীম হলে সাফল্য তো দুনিয়ার জীবনেও দেখা যেত।
পবিত্র কুর’আন অস্ত্র হলো বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের। যার হাতে এ অস্ত্র থাকে সে কখনো জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, ফ্যাসিবাদ, নাস্তিকতাবাদ, কম্যুনিজম ইত্যাদি মতবাদী রাজনীতির স্রোতে কখনো পরাজিত হয়না তথা ভেসে যায় না। পবিত্র কুর’আন পড়ে প্রাথমিক যুগের মুসলিমরা এতটাই অনুপ্রাণীত হতো যে, খেজুর খেতে বসা ক্ষুদার্ত মানুষটি, জিহাদের ডাক শুনে মুখের খেজুর ফেলে দিয়ে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এবং শহিদ হয়ে গেছেন। খেজুর চিবাতে গিয়ে জিহাদে যেতে বিলম্ব হয়ে যাবে এবং তাতে দেরি হবে জান্নাতে পৌঁছা, সে দেরিটুকুও তাদের সয়নি। মিশর, সিরিয়া, ইরাক, আলজিরিয়া, সূদান, মরক্কো, ইরানসহ ইসলাম যেখানেই গেছে সেখানেই আল্লাহর এ কিতাবটি সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্রজুড়ে আমূল বিপ্লব এনেছে। কিন্তু কুর’আন না বুঝার কারনে বাংলাদেশের মুসলিমগণ ব্যর্থ হয়েছে ইসলামের পক্ষে বিপ্লব আনতে। তারা ব্যর্থ হয়েছে মহান আল্লাহতায়ালার সৈনিক হতে। ইসলামকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে জিহাদে নামা দূরে থাকে তারা ভোট দিতেও রাজী নয়। তারা বরং উৎসব করে ইসলামপন্থীদের পরাজয় এবং জাতীয়তাবাদী, ফ্যাসিবাদী ও সেক্যুলারিস্টদের বিজয় নিয়ে।
মুসলিমের কাজ হলো কুর’আনের শিক্ষাকে সর্বজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সে কাজটি করা হলে বাকি কাজটুক কুর’আন নিজেই করে। চারিদিকে ছিটনো বীজের কিছু বীজ পাথরের উপর পড়ে, সেগুলো গজায় না। কিছু বীজ ঝোপঝাড়ে পড়ে, সেগুলো গজালেও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বেড়ে উঠেনা। কিন্তু কিছু বীজ উর্বর ভূমিতেও পড়ে। সেগুলো প্রবলভাবে বেড়ে উঠে এবং উত্তম ফসলও দেয়। তেমনি কুর’আনী জ্ঞানের বেলায়ও। তাই স্ট্র্যাটেজি হতে হবে জনগণের মাঝে কুর’আন বুঝার সামর্থ্য সৃষ্টি করা এবং কুর’আনের বাণীকে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। এর চেয়ে উত্তম নেকীর কাজ নেই। মানব জাতির জন্য এর চেয়ে বড় কল্যাণকর কাজও নেই। ইসলামী রাষ্ট্রবিপ্লবের লক্ষ্যে বস্তুত এটিই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই নবীজী (সা:)’য়ের হাদীস: “তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম ব্যক্তি যে কুর’আন শিক্ষা করে এবং অন্যদের কুর’আন শিক্ষা দেয়।”
তাই মুসলিমদের জন্য মূল প্রায়োরিটি হলো পবিত্র কুর’আনের নিষ্ঠাবান পাঠক, জ্ঞানসাধক ও প্রচারক হওয়া। এবং সম্পর্ক অটুট করতে হয় একমাত্র মহান আল্লাহতায়ালার সাথে; এবং সতর্ক থাকতে হয় যেন, দল, দলীয় নেতা, পীর, ফেরকা ও খানকা’র সাথে গড়ে উঠা সম্পর্ক যেন মহান স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক গড়ায় বাধা সৃষ্টি না করে। আখেরাতে একমাত্র মহান আল্লাহতায়ালাই জান্নাত দিয়ে পুরস্কৃত করবেন -কোন নেতা, পীর বা খানকার দরবেশ নয়। তাই যে ব্যক্তি ব্যর্থ হলো সর্বশক্তিমান মহান প্রভুর সাথে সম্পর্ক গড়তে, তাঁর পুরা বাঁচাটিই আযাবের কারণ হয়। এবং যাদের সম্পর্ক মহান আল্লাহতায়ালার সাথে, তাদের পক্ষে অন্য মুসলিমদের সাথে ভাতৃত্বসুলভ সম্পর্ক গড়াটিই সহজ হয়ে যায়। কারণ সে হুকুমটিও মহান আল্লাহতায়ালার। সে হুকুমকে অমান্য করে কি তাঁর সাথে সম্পর্ক গড়া যায়? সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহতায়ালার সাথে সম্পর্ক কিরূপে মজবুত করতে হয় -সে নসিহতও এসেছে পবিত্র কুর’আনে। সেটি হলো তাঁর রশি তথা কুর’আনকে মজবুত ভাবে আঁকড়ে ধরার। সে নির্দেশটি এসেছে এভাবে:
وَٱعْتَصِمُوا۟ بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعًۭا وَلَا تَفَرَّقُوا۟ ۚ
অর্থ: “এবং তোমরা আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে ধরো এবং পরস্পরে বিভক্ত হয়ো না।” -সুরা আল ইমরান ১০৩।
নবীজী (সা:)কে বলা হয়েছে:
فَٱسْتَمْسِكْ بِٱلَّذِىٓ أُوحِىَ إِلَيْكَ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ
অর্থ: “যা কিছু আপনার উপর নাযিল করা হয়েছে সেগুলিকে আঁকড়ে ধরুন, নিশ্চয়ই আপনি সিরাতাল মুস্তকীমের উপর আছেন।” –(সুরা যুখরুফ, আয়াত ৪৩)।
আর নবীজী (সা:)’য়ের উপর যে হুকুম, সে হুকুম তো তার উম্মতের উপরও। একই কথা বলা হয়েছে নিচের আয়াতে। বলা হয়েছে:
وَمَن يَعْتَصِم بِٱللَّهِ فَقَدْ هُدِىَ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ
অর্থ: “এবং যারা আল্লাহর সাথে একাত্ম হলো, সেই পেল সিরাতাল মুস্তাকীমের পথে হিদায়েত।”-(সুরা আল-ইমরান, আয়াত ১০১)।
আল্লাহর সাথে একাত্ম হওয়ার অর্থ হলো, পবিত্র কুর’আনে ঘোষিত মিশনের সাথে একাত্ম হওয়া। এবং যে ব্যক্তি সে মিশনের সাথে একাত্ম হয়, একমাত্র সেই হিদায়েত পায়। একমাত্র এ পথেই মু’মিন ব্যক্তি নিজের জন্য যেমন সিরাতাল মুস্তিকীম খুঁজে পায়, তেমনি সিরাতাল মুস্তিকীমের সন্ধান দেয় লক্ষ লক্ষ মানুষকে। মু’মিনের কাজ হলো জনগণের সামনে এ কুর’আনী দর্শনকে পেশ করা এবং সে সাথে কুর’আনী মিশনকে পেশ করা। একাজই করে গেছেন মহান নবীজী (সা:)। আল্লাহতায়ালার খলিফা ও নবীজী (সা:)’য়ের উম্মত রূপে এ কাজ তো প্রতিটি মুসলিমের।
সিরাতাল মুস্তাকীমের পথে চলতে হলে কুর’আনী জ্ঞান ও কুর’আনী মিশনের সাথে একাত্ম হওয়ার বিকল্প নাই। এ বিষয়ে মহান আল্লাহতায়ালার উপরিউক্ত হুশিয়ারি পবিত্র কুর’আনে বার বার এসেছে। অথচ এখানেই আজকের মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। একাত্ম হওয়ার বদলে তারা গড়েছে কুর’আনে সাথে গভীর বিচ্ছিন্নতা। এবং সে বিচ্ছিন্নতা দিন দিন গভীরতর হয়েছে পবিত্র কুর’আন না বুঝার কারণে। এরই পরিণাম হলো, মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডাই তাদের কাছে অপরিচিত। অথচ ঈমানদারের উপর অর্পিত দায়িত্ব হলো, সে একাত্ম হবে মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডার সাথে। এবং এ জন্যই তাকে একাত্ম হতে হয় পবিত্র কুর’আনের সাথে। অর্থাৎ আঁকড়ে ধরতে হয় পবিত্র কুর’আনকে -যা বলা হয়েছে উপরিউক্ত আয়াতে।
তবে পবিত্র কুর’আনে সাথে তো তারাই একাত্ম হয় -যারা কুর’আনের অর্থ বুঝার সামর্থ্য রাখে। যারা কুর’আনে অর্থই বুঝলো না, তারা কিরূপে একাত্ম হবে? নবীজী (সা:) তাঁর ইসলামী রাষ্ট্র ও সভ্যতা নির্মাণের কাজটি এখান থেকেই শুরু করেছিলেন, অথচ আজকের ইসলামপন্থী নেতাকর্মী তাদের কাজের শুরু করেছে এ ধাপটি বাদ দিয়েই। তারা ফাউন্ডেশন না গড়েই প্রাসাদ গড়ার স্বপ্ন দেখছে! মুসলিমদের সকল ব্যর্থতার মূল কারণ এখানেই।