নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলে মানষিক নির্যাতনের ঘটনায় এক নারী শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হলেও একই ঘটনায় অপেশাদার আচরণে হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা জেসিনের বিরুদ্ধে রুমমেট জুনিয়রদের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে এক হাজার টাকা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দোলনচাঁপা হলের ৪০৬ নম্বর কক্ষে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ ও আইন ও বিচার বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ওই সিনিয়র অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সিএসই বিভাগের এক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অক্সিজেন দেওয়ার পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “অফিস টাইম ছাড়া আমাকে ফোন করা যাবে না।” এই বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়। তাদের দাবি, আবাসিক হলে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সাড়া পাওয়া উচিত ছিল।
শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য। ফলে আবাসিক হলে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত সাড়া দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
পরে প্রভোস্টের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সরাসরি তাকে ফোন না করে হাউস টিউটরের মাধ্যমে জানানো উচিত ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক নন।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী প্রভোস্টকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করার কথা, ফলে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে ব্রহ্মপুত্র ডরমেটরিতে তার নামে একটি কক্ষ বরাদ্দ থাকলেও সেখানে তিনি নিয়মিত অবস্থান করেন না।বরং, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আরেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ওই কক্ষে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে রবিবার সকাল ১১টায় উপাচার্য বরাবর দুই দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে হল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার এবং তদন্তসাপেক্ষে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হল প্রভোস্টের পদত্যাগও দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্ত জেসিনকে হল থেকে বহিষ্কার করে এক দিনের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে কোনো শোকজ নোটিশ বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা চলছে। আবাসিক হলে নিরাপদ পরিবেশ ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।