জাকির হোসেন,পিরোজপুর: পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই যুবকসহ তার মা ও স্ত্রী আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ মে শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বেপারীর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ফজলু বেপারী (৪০) সম্প্রতি তার দাদির কাছ থেকে ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমিতে একটি বেসরকারি মানবিক সংস্থার সহায়তায় বসতঘর নির্মাণ করেন। অভিযোগ উঠেছে, তার চাচা লোকমান বেপারী, চাচি খাদিজা বেগম এবং চাচাতো ভাই জাফর বেপারীসহ ২৫-৩০ জন লোক ওই জমির মালিকানা দাবি করে ফজলুর পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শনিবার বিকেলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে লাঠিসোটা নিয়ে এসে তাদের বসতঘর ভাঙচুর ও উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। এ সময় ফজলু বেপারী ও তার মা ফজিলা বেগম (৫৫) বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে ফজলুর স্ত্রী মনিরা বেগম (৩০) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এতে তিনজনই আহত হন।
তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা বাড়িতে ফিরে যান।
ফজলু বেপারী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও লিভারজনিত রোগে ভুগছেন এবং তার বাম পা প্রায় অকেজো। আর্থিক সংকটে দীর্ঘদিন অন্যের বাড়িতে বসবাস করার পর নিজের জমিতে একটি ঘর নির্মাণ করতে সক্ষম হন। কিন্তু এখন সেই ঘর থেকেও উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “আমরা অসহায় মানুষ। নিজের জমিতে ঘর তুলেছি। কিন্তু আত্মীয়স্বজনই এখন আমাদের উচ্ছেদ করতে হামলা করছে।”
ঘটনার পর শনিবার রাতেই ফজলু বেপারী বাদী হয়ে জিয়ানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ বেপারী বলেন, “ফজলু অত্যন্ত অসহায় একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। তারা নিজেদের জমিতেই ঘর তুলেছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এলাকাবাসী এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে এসে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
জিয়ানগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”