আজিজ আল জামান, রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লালকুঠি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাস জমিতে পরিচালিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী, অভিভাবকবৃন্দ, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি জমিতে ২০১৬ সালে তৎকালীন গভর্নিং বডির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজোসে মার্কেট নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করা হয় যা রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি ও বিধি বিধানের পরিপন্থী।
বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, দোকানপাট ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এর ফলে বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশও হুমকির মুখে পড়েছে।
আবেদনকারীরা দাবি করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংলগ্ন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় ছাত্রীদের চলাচল, নিরাপত্তা এবং মানসিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় এবং আর্থিক অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার সরকারি নীতিমালার সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম সাংঘর্ষিক। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার স্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এ প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাস জমিতে পরিচালিত সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা, জমির প্রকৃত অবস্থা ও দখল সংক্রান্ত বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা, সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে জমিকে শিক্ষা ও শিক্ষার্থী কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া।
আবেদনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, ছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষার স্বার্থে জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।