নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনার সময় মানুষ নীরবে কেঁদেছে, কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে জনগণ সরাসরি রাজপথে নেমে আসে। তাঁর দাবি, এ গণঅংশগ্রহণই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সফলতার অন্যতম কারণ।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
সভায় মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে আলেম-ওলামারা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন জাতীয় পর্বে তাদের অংশগ্রহণ ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামারা রাজপথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আলেম সমাজের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা আপসহীন। তাঁর ভাষ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের সময় বৃহত্তর সমাজ এবং অনেক রাজনৈতিক দল আলেমদের পাশে দাঁড়ায়নি। পরবর্তীকালে সরকারবিরোধী সব ধরনের মত দমনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের জন্য কর্তৃত্ববাদী শাসনের পরিবেশ তৈরি হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এবি চেয়ারম্যান আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ধাপে ধাপে বিস্তৃত হয়েছে। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হন। পরবর্তীতে নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নামলে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং যারা শেষ পর্যন্ত "ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল" বলে অভিযোগ করেন, তাদেরও সমালোচনা করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মঞ্জু বলেন, ইতিহাসে পরাজিত শক্তি ক্ষমতা হারালেও তাদের সহযোগীরা নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সময়েও সেই ধরনের অপচেষ্টা চলছে।
আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ, ইসলামী যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ এবং মো. আলিফ।
খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাই পরবর্তী গণআন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করেছিল। তাঁর অভিযোগ, জঙ্গিবাদের ইস্যুকে ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিল।
ইসলামী যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকলেও তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।
খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে।
এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তাদের বক্তব্যগুলো তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রতিবেদনে সেসব বক্তব্য সংবাদধর্মীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।