• ঢাকা |

ডেঙ্গু-হাম মোকাবিলায় অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবি এবি পার্টির


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

টিকাদানের আওতা ৯৫ শতাংশে উন্নীত ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেঙ্গু ও হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা বন্ধ, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা কার্যকর এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির নেতারা বলেছেন, প্রতিরোধযোগ্য রোগে মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। মানুষের জীবন রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এবি পার্টি ডক্টরস আয়োজিত ‘ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. (অব.) মেজর ওহাব মিনার বলেন, হাম-রুবেলার টিকাদানের আওতা ২০১৪ সালের ৯২ শতাংশ থেকে ২০২৪-২৫ সালে ৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে। টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অব্যবস্থাপনা এবং সময়মতো বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি না হওয়াকে তিনি সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে দোষারোপ করতে আসিনি, এসেছি মানুষকে বাঁচাতে।” ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধনের কার্যকারিতা যাচাই, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক শিশুদের টিকাদানের আওতা অন্তত ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন। ডেঙ্গুর সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং চিকিৎসক-নার্সের সংকট যথাযথ চিকিৎসাসেবার পথে বড় বাধা। তিনি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষায়িত বা পৃথক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানান। হামের টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্নের কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।

ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মো. আবদুল আহাদ মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ ও পানি নিষ্কাশনে বাধা দূর করে জনস্বাস্থ্যকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় অন্যান্য বক্তাও স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম তদন্ত, নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল মোরশেদ খান, চিকিৎসক ডা. সাইফুদ্দীন কিসরু, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের নেতা ডা. মারুফ শাহরিয়ার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. শওকত আরমানসহ এবি পার্টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।