• ঢাকা |

দিল্লির আন্দোলনের ঢেউ কলকাতায়: ছাত্রদের ঢলে মুখর রাজপথ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পৌঁছে গেল কলকাতার রাজপথে। ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে বিতর্ক, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত আয়োজিত বিশাল ছাত্রসমাবেশে অংশ নেন হাজারো শিক্ষার্থী, যুবক এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থকেরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতায় এত বড় ছাত্রসমাবেশ খুব কমই দেখা গেছে। দিল্লির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভিন্নমতের একাধিক ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের একই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে আন্দোলনের বিস্তৃতি এবং জাতীয় পর্যায়ে এর প্রভাব আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সকাল থেকেই জমতে থাকে জনসমাগম

শুক্রবার সকাল থেকেই শিয়ালদহ স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা। শুধু শিক্ষার্থী নয়, চাকরিপ্রার্থী, যুবসমাজ এবং সাধারণ নাগরিকেরাও মিছিলে যোগ দেন। দুপুরের দিকে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে মিছিল শুরু হলে শহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক পরিণত হয় দীর্ঘ জনস্রোতে।

মিছিলজুড়ে ছিল প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন এবং নানা ধরনের স্লোগান। অনেকেই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে মুখোশ পরে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে বারবার উঠে আসে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষার দাবির কথা।

এক মঞ্চে নানা সংগঠন

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি সংগঠন পৃথকভাবে কর্মসূচির অনুমতি চাইলেও পুলিশ তা দেয়নি। পরে তারা বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বিভিন্ন ছাত্র, যুব ও নাগরিক সংগঠনের সম্মিলিত উপস্থিতিতে মিছিলটি আরও বড় আকার ধারণ করে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম দেশের লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। তাই ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা পরিচালনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

দিল্লির আন্দোলনের প্রতি সংহতি

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দিল্লিতে যে আন্দোলন চলছে, সেটি কেবল একটি শহরের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়; বরং তা দেশের উচ্চশিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে জাতীয় উদ্বেগের প্রতিফলন। এ কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

কর্মসূচিতে দিল্লিতে আন্দোলনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচির প্রতিও সংহতি জানানো হয়। বক্তাদের ভাষায়, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনার দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

নিরাপত্তায় কড়া নজর, শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি

বৃহৎ সমাবেশকে কেন্দ্র করে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি শেষ হয়।

শিক্ষা বিতর্কে নতুন মাত্রা

ভারতের শিক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই কলকাতার এই ছাত্রসমাবেশ নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের সঙ্গে কলকাতার শিক্ষার্থীদের সংহতি দেখিয়েছে যে বিষয়টি আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও ভারতের জনপরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকবে।

প্রয়োজনে এটিকে আরও অনুসন্ধানধর্মী, প্রথম পাতার লিড স্টোরি বা আন্তর্জাতিক পাতার বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের আকারেও রূপান্তর করা যেতে পারে।