• ঢাকা |

হরমুজ খুলতে ক্ষতিপূরণ চায় ইরান, উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় দেশগুলো


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৮ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নৌ চলাচলের স্বাধীনতার বিনিময়ে জব্দ সম্পদ ছাড়ের প্রশ্ন; দীর্ঘমেয়াদি দর-কষাকষির আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে ইরান। তেহরানের এমন অবস্থানে উদ্বেগ বেড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক দেশগুলোর আলোচনা দীর্ঘায়িত হয়ে নতুন জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-এতাইবি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের যে আলোচনা চলছে, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকালীন দর-কষাকষিরই একটি অংশ।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-এতাইবি বলেন, ইরানের কাছে ওমানের সঙ্গে আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো প্রায় একই। তেহরান যে বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে, তার জন্যই ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে।

‘হরমুজ খুলতে ইরানকে কী দিতে হবে?’

ইরানের দাবি ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরানকে কী দিতে হবে?

আল-এতাইবির মতে, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিনিময়ে ইরানের জব্দ করা আরও সম্পদ ছেড়ে দেওয়া হবে কি না, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলের বিষয়টি কেবল সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ও যুক্ত হয়ে পড়ছে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ফলে এ পথে নৌ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

চাপ তৈরির কৌশল?

আল-এতাইবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ চাওয়া ইরানের কোনো স্থায়ী বা নীতিগত অবস্থান নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরির জন্য এটিকে একটি দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান।

তবে এই কৌশল নিয়েই উদ্বেগ রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর। কারণ, একবার হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলকে কোনো আর্থিক বা রাজনৈতিক বিনিময়ের সঙ্গে যুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দাবি আবারও সামনে আসতে পারে।

আল-এতাইবি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করে, তাহলে এক বা দুই মাস পর আবারও একই ধরনের দাবি তুলতে পারে। এতে আলোচনা দীর্ঘায়িত হয়ে ‘শেষ না হওয়া’ দর-কষাকষিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আস্থার সংকটই বড় বাধা

দীর্ঘস্থায়ী দর-কষাকষির এমন পরিস্থিতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

তার মতে, সংকট সমাধানে শুধু ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান-আলোচনা চালিয়ে যাওয়াই যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনাও পুনরায় শুরু করা প্রয়োজন।

আল-এতাইবির মতে, জব্দ করা ইরানি সম্পদ এবং হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল—এই দুই ইস্যুতে একটি সমন্বিত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে সংকট নিরসনের পথ তৈরি হতে পারে।

এখন তাই নজর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কূটনৈতিক দর-কষাকষির দিকে। তেহরানের ক্ষতিপূরণের দাবি শেষ পর্যন্ত আলোচনার অংশ হয়ে থাকে, নাকি বৃহত্তর সমঝোতার মাধ্যমে তা মীমাংসা করা হয়—তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি।