সৈয়দ আখতার সিরাজী: আগামীকাল দেশজুড়ে উদযাপিত হবে বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ। বাঙালির প্রাণের এই উৎসব শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীকই নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন মতভেদ।
ঐতিহাসিক সূত্র মতে, বাংলা সনের (বঙ্গাব্দ) প্রবর্তন ঘটে মোগল আমলে, ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবরের উদ্যোগে। ধারণা করা হয়, হিজরি ৯৬৩ সালকে ভিত্তি করে কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে এই সন চালু করা হয়। যদিও এটি মূলত সৌরভিত্তিক, তবুও এর শিকড় হিজরি চন্দ্রবর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ইসলামী ইতিহাসে হিজরি সনের সূচনা হয় ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর সময়। তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হিজরতকে কেন্দ্র করে এই সনের গণনা চালু করেন।
অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত খ্রিস্টাব্দ বা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সূচনা ধরা হয় হযরত ঈশা (আ.)-এর জন্ম সাল থেকে। সময় গণনার এই পদ্ধতি আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং বিভিন্ন ধর্ম ও অঞ্চলের মানুষ তা ব্যবহার করে আসছে।
তবে এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, মুসলিম সমাজে খ্রিস্টাব্দ বা খ্রিস্টপূর্ব শব্দের ব্যবহার ঐতিহাসিক বাস্তবতার অংশ হলেও, অন্যদের মতে এটি মুসলিম ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ইতিহাসের বিকৃতি হিসেবে দেখা উচিত।
বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর দেশজুড়ে নানা আয়োজন হয়—মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন উৎসবমুখর কার্যক্রম। এসব আয়োজন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের নানা দিক ঘিরে বাংলা নববর্ষ শুধু একটি উৎসব নয়; এটি বাঙালি পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ, যা নতুন বছরের সূচনায় মানুষকে নতুন আশায় উদ্বুদ্ধ করে।