মোঃ মোরছালিন, জয়পুরহাট :চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে জীবন-জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়ে সফল হয়েছেন জয়পুরহাটের দুই ভাই শিবলু ও তুষার। জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কোকতাড়া তালতলী এলাকায় ছোট যমুনা নদীর তীরঘেঁষা প্রায় ৪৭ বিঘা পরিত্যক্ত জমিতে তারা গড়ে তুলেছেন “গ্যালাক্সি ড্রাগন বাগান”। এই উদ্যোগ এখন শুধু তাদেরই নয়, হয়ে উঠেছে আশপাশের মানুষের কর্মসংস্থানেরও মাধ্যম।
নদী পারাপারের জন্য বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করেছেন একটি সেতু। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন বাগানটি দেখতে ও ফল কিনতে। বাগানের চারপাশ রড-সিমেন্টের পিলার ও জিআই তার দিয়ে সুরক্ষিত। বর্তমানে গাছে ফুল ও ফলের সমারোহ।
বাগানেই রাস্তার পাশে দোকান বসিয়েছেন উদ্যোক্তারা। বাগানের টাটকা ফল দেখতে ও কিনতে দাঁড়াচ্ছেন যাত্রীরা, চালকরা এবং স্থানীয় ক্রেতারা। মান ভালো ও দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় পরিবারের জন্য অনেকে বেশি করে ফল কিনছেন।
স্থানীয় বাগজানা ইউনিয়নের এক ক্রেতা বলেন, “বাজারে ড্রাগন ফল শুকিয়ে যায়, কিন্তু এখানকার ফল এতটাই টাটকা, বোটা থেকে রস ঝরছে।”
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আব্দুল মমিন বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই এখান দিয়ে যাতায়াত করি। ফল না কিনে যাওয়া কঠিন, কারণ এখানকার ফল টাটকা ও স্বাস্থ্যকর।”
বাগান মালিক শিবলু বলেন, “প্রায় এক বছর আগে অনেক টাকা খরচ করে বাগান শুরু করি। প্রথমে ফলন কম ছিল, এখন ভালো ফল পাচ্ছি। দেশের বিভিন্ন জেলায় কুরিয়ারে পাঠাই, আবার স্থানীয় বিক্রির জন্য দোকান দিয়েছি। কৃষি অফিসের সহায়তা পেয়েছি, তবে স্বল্প সুদে ঋণ পেলে আরও বড় পরিসরে কাজ করা যেত এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হতো।”
ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শ্রী তরুণ কুমার পাল বলেন, “ড্রাগন ফল অত্যন্ত পুষ্টিকর। এতে প্রচুর ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা কোলেস্টেরল কমাতে, রক্ত তৈরি করতে, হৃদরোগ প্রতিরোধ, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।”
এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—কৃষিই হতে পারে স্বপ্নপূরণের পথ। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামেই গড়ে উঠতে পারে টেকসই কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা মডেল।