এম এস নাসিম: জামায়াত ইসলামের মহানগরী দক্ষিণ সহকারি সেক্রেটারি ড.আব্দুল মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ ৫৪ বছরের ইতিহাস প্রমাণ করে না যে শুধুমাত্র একটা রাজনৈতিক কমিটমেন্ট দিব বা অঙ্গিকার করে এটার বিপরীতে ক্ষমতায় গিয়ে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবো- এটা বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে না।
ঐক্যমত কমিশনের প্রায় ১৯-২০টি বিষয়ের মধ্যে ৯টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি। বিএনপি সরাসরি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি তারা ক্ষমতায় যায়, তখন তারা বলতেই পারে— ‘আমরা তো এ বিষয়গুলোতে সম্মত ছিলাম না, তাই বাস্তবায়ন করব না। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, জনগণের যে ম্যান্ডেট, সেটা যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত না থাকে, তাহলে আগামী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে, গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাংলাদেশ ক্ষতির মুখে পড়বে।”
১ আগস্ট একটি টেলিভিশন টকশোতে তিনি বলেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকগুলোতে সময়, শ্রম ও মেধা ব্যয় করেছে। “এই পরিশ্রম যদি আইনি ভিত্তি না পায়, আর কেবল স্বাক্ষর করে টেবিলের ড্রয়ারে ঢুকিয়ে রাখা হয়— তাহলে সেই সময়, সেই শ্রমের মূল্য কী? দুই হাজার শহীদ, ত্রিশ হাজার আহত, এবং অসংখ্য রক্তদানকারী মানুষদের আত্মত্যাগের মূল্য কোথায় থাকবে? যারা শহীদ পরিবার নিয়ে কাজ করেছে, তাদের বক্তব্য শুনেছে তাদেরকে তারা বলেছে,— বাংলাদেশে আর কোন দিন ‘ফ্যাসিস্ট যেন আর কেউ হতে না পারে, গণতন্ত্র যেন কেউ হাইজ্যাক করতে না পারে। সেজন্যই আমাদের আইনগত ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।”
বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে ড. আব্দুল মান্নান বলেন,“এই সরকার কি আদৌ বৈধ? দেশে তো কোনো নির্বাচন হয়নি। বিচার বিভাগের মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক ধারা রক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে মাত্র। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও ক্ষমতায় আসার পর আইনি বৈধতা পেয়েছিলেন। সুতরাং জনগণের সম্মতি থাকলে গণভোটের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান করা যেতে পারে।”তিনি বলেন,“রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছালে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়া যেতে পারে। যদি আমরা সংবিধানে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করি, তাহলেই জনগণ গ্রহণ করবে।”
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. মান্নান বলেন,“উনি বলেছেন, ডানপন্থীদের উত্থান হচ্ছে। যদি তিনি আমাদের বা ইসলামপন্থীদের বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে বলি— আমরা তো দীর্ঘদিন চারদলীয় জোটের অংশ ছিলাম, কিন্তু আমরা তো আমাদের আদর্শ আপোষ করে তাদের সাথে ছিলাম না। আগেও যেমন ইসলামভিত্তিক রাজনীতি করতাম, এখনও তাই করি। আমরা গণতন্ত্রের এই শ্লোগান বন্ধ করিনি। আমরা আগেও যেমন গণতন্ত্রের শ্লোগান দিতাম এখনো সেটিাই করি। তিনি আরও বলেন,“আসলে, বিএনপি এখন অনেক জায়গায় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। তারা চাঁদাবাজি, দখল, খুন এবং দুর্নীতিকে আড়াল করতে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে চেষ্টা করছে।”