রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় শালিস বানিজ্যের অভিযোগ
কল্লোল আহমেদ, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া রিপন মাস্টারের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন এনজিওকর্মী এক নারী। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় হাজির হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করলে আদিতমারী থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে।
অভিযুক্ত রিপন মাস্টার পশ্চিম ভেলাবাড়ি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। অপর অভিযুক্ত চাঁন মিয়া (৪২) তালুক দুলালী (বারঘড়ি) গ্রামের হাসমত আলী ঝুল্লার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ব্র্যাকে কর্মরত ওই নারীর (৩০) সঙ্গে চেয়ারম্যানটারী এলাকার নাসির উদ্দিন জয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে, ওই নারী গত ২৭ জুলাই প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করেন।
পরবর্তীতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশায় ভুক্তভোগী নারী ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি রিপন মাস্টারের শরণাপন্ন হন। তার পরামর্শেই নারীকে চাঁন মিয়ার বাড়িতে রাখা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিন মধ্যরাতে রিপন মাস্টার গোপন ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ব্যর্থ হলে চলে যান। এরপর আশ্রয়দাতা চাঁন মিয়াও ধর্ষণের চেষ্টা চালালেও নারীর আত্মচিৎকারে বাড়ির লোকজন চলে আসায় পালিয়ে যান।
এছাড়া ঘটনার একদিন পর রিপন মাস্টার ফোনে আবারও কু-প্রস্তাব দেন, যার একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গোলাম কিবরিয়া রিপন এলাকায় বিচারক বনে যান। শালিসি বৈঠকের নামে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক প্রকার বানিজ্যও গড়ে তোলেন তিনি।
ভুক্তভোগী নারী প্রমাণ হিসেবে সেই কল রেকর্ডও সংরক্ষিত রেখেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ মামলাটি নিয়মিত হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আকবর বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া রিপনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব ছালেকুজ্জামান প্রামানিক বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।”