মোঃ মমিনুল ইসলাম, পার্বতীপুর: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে পাথর বিক্রির সরকারি ক্ষতি প্রায় দেড় কোটি টাকা, খনির একটি সুত্র অভিযোগ তুলেছে।
জানা গেছে,পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির রক ডেব্রিস (ডাষ্টের পাথর) ৪৬ হাজার মেট্রিক টন পাথর কম দামে বিক্রি করে সরকারের প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতি হবে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একটি সুত্র বলছে, গত ৪ মে পেট্রোবাংলা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করে ৮ মে-২০২৫ ইং তারিখে খনির কোল মাইনিং কোম্পান(বিসিএমসিএল) রক ডেব্রিস(ডাষ্টের পাথর) ৪৬ হাজার মেট্রিক টন ১০ ভাগ জামানতে অর্নেস্টমানি/ বিডবল্ড হিসেবে বিক্রয় করা হবে।
এতে করে খনির কোল মাইনিং কোম্পানী (বিসিএমসিএল) রক ডেব্রিস (ডাক্টের পাথর) ৪৬ হাজার মেট্রিক টন প্রতিটি সিডিউলের মূল্যে ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ঐ মাসের ২৯ তারিখে প্রায় ৪৪ টি সিডিউল ক্রয় করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এরপর কোল মাইনিং কোম্পানী (বিসিএমসিএল) রক ডেব্রিস (ডাষ্টের পাথর) ১ জুন-২০২৫ তারিখে ট্রেন্ডার অংশ গ্রহণ করে ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরা হলেন, মানিক ট্রেডার্স, রাবেয়া ট্রেডার্স, জহির ট্রেডার্স, ফুলবাড়ী ট্রেডার্স ও ফেরদৌস ট্রেডার্স । বাকী ৩৯টি সিডিউল নেকো করার কারণে আর কেউ অংশ গ্রহণ করেন নাই। সর্বোচ্চ দরদাতা মানিক ট্রের্ডাস গোপালপাড়া, মৌকপুকুর পার্বতীপুর, দিনাজপুর সরকারী দর ৬ শত ৫০ টাকা ৫০ পয়সা হওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেয়। উক্ত মুল্য হিসেবে পাথরের দাম হয় ২ কোটি ৯৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
অথচ ঐ পাথরের বর্তমান বাজার মূল্যে ৯ শত ৯০ টাকা হিসেবে ৪ কোটির উর্ধে। ফলে পাথর বিক্রিতে সরকারের দের কোটির উর্ধে ক্ষতি হবে বলে খনির একটি সুত্র অভিযোগ তুলেছে। খনির পাথর কম দামে বিক্রির ঘটনায় একটি সুত্র বলছে, অল্পদামে বিক্রয় করার কারণ কি? এরুপ জরিপের অনুসন্ধানে জানা গেছে কতিপয়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কোল মাইনিং কোম্পানী ও পেট্রোবাংলার অসাধু কর্মকর্তারা ভাগ বাটোয়ার কারণে অল্পদামে রক ডেব্রিস (ডাষ্টের পাথর) ৪৬ হাজার মেট্রিক টন বিক্রি করার কথা উল্লেখ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির একাধিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মালিক জানান, ৩৯টি সিডিউল নেকো একাই করেন। বড়পুকুরিয়া রেলগেট বাজার কয়লা ও অন্যান্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক ১টি সিডিউলের মূল্যে ১৫ হাজার হতে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে ৩৯টি সিডিউল ক্রয়ের কথা জানান।
এ বিষয়ে খনির এম,ডি আবু তালেব ফরাজী তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার কারণে মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি এবং বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানীর ব্যবস্থাপক মার্কেটিং বিভাগের প্রকৌশলী নজমুল হকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে বড়পুকুরিয়া রেলগেট বাজার কয়লা ও অন্যান্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাবু বলেন, নেকো বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে যদি জ্বালানি মন্ত্রনালয় ও পেট্রোবাংলার উপদেষ্টা মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণে আনা হয়, তবেই এর আসল রহস্য উম্মোচন হওয়ার কথা জানান।