রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেছেন, মেট্রোপলিটন পুলিশের সব ইউনিট সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত জনবল চাওয়া হয়েছে। চাহিদার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এক হাজার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন মাঠে অনুষ্ঠিত ব্রিফিং প্যারেডে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরও জানান, নির্বাচন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে হওয়ায় দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ ধৈর্য, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। সকলের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করতে হবে। ভোটগ্রহণের সময় সাতটি প্রধান প্রবেশদ্বারে তল্লাশির দায়িত্বে থাকবে বিএনসিসি, পুলিশ তাদের সহযোগিতা করবে। ভোট শেষে নির্বাচনী উপকরণ যথাযথভাবে গণনাস্থলে পৌঁছে দিতে হবে এবং ভোট গণনার সময়ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও পুলিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ক্যাম্পাসের কিছু এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ। সেসব স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা, তল্লাশি ও পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বলয়ের সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় মোট দুই হাজার তিন শ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া থাকবে ছয় প্লাটুন বিজিবি এবং বারো প্লাটুন র্যাব সদস্য।
তিনি আরে বলেন, রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন ধাপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপ হলো প্রি-ইলেকশন বা নির্বাচনের পূর্ববর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা ইতিমধ্যেই কার্যকর রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপ হলো ভোটগ্রহণ চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তৃতীয় ধাপ হলো পোস্ট-ইলেকশন বা নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ের নিরাপত্তা। তিনটি পর্যায়েই বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম চলবে।
আরএমপি কমিশনার আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনলাইন বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পৃথক একটি সাইবার টিম গঠন করা হয়েছে। টিমটি সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব ছড়ানো রোধ করছে এবং যেকোনো অনৈতিক প্রচারের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। নির্বাচন প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন কোনো ধরনের উসকানি বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে তারা প্রতিক্রিয়া না দেখায়। কোনো সমস্যা হলে প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য কিছু এলাকায় সাময়িক কাঠামো তৈরি করে প্রবেশপথ সীমিত করা হয়েছে। সাতটি প্রধান গেট খোলা থাকবে, প্রতিটি গেটে কঠোর তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে, যাতে কোনো বহিরাগত অনধিকার প্রবেশ করতে না পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। প্রশাসন নিয়মিতভাবে যাচাই করছে, হলের ভেতরে কোনো বহিরাগত অবস্থান করছে কিনা। প্রতিটি হলে নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে।
ব্রিফিং প্যারেডে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) নাজমুল হাসান, উপপুলিশ কমিশনার ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ খোরশেদ আলমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।