জনি সিদ্দিক: পুরুষ মানেই পিতা, পুরুষ মানেই স্বামী, পুরুষ মানেই ছেলে, পুরুষ মানেই সংসারের দায়িত্ব ও সংসারের প্রধান। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বছর ঘুরে আসলো আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। তবে, প্রতি বছর যখন নারী দিবস আসে, তখন সমাজে এক ধরনের জাগরণ দেখা যায়। নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। কিন্তু নভেম্বরের ১৯ তারিখে পালিত আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস আসে নিঃশব্দে, প্রায় অদৃশ্য হয়ে। যেন সমাজ পুরুষের কষ্ট, ত্যাগ বা নির্যাতন সবকিছুকেই স্বাভাবিক ভেবে নিতে শিখে গেছে। নারী দিবসে যেমন নারীর অধিকারের জন্য সর্বস্তরে সাড়া পড়ে যায়; কিন্তু পুরুষের অধিকারের জন্য কাউকে সোচ্চার হতে দেখা যায় না।
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে অসংখ্য পুরুষ আজ নীরবে নির্যাতিত হচ্ছে! কখনো মানসিকভাবে, কখনো আর্থিকভাবে, কখনো মিথ্যা অভিযোগের জালে ফেঁসে। কিন্তু সেই নির্যাতনের কোনো আওয়াজ তোলা যায় না, কারণ সমাজের চোখে— “পুরুষ মানেই শক্তিশালী” সে কাঁদতে পারে না, সে প্রতিবাদ করতে পারে না। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। সংসারে, প্রেমে বা বিবাহে অনেক পুরুষই আজ মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক অপমানের শিকার। কিন্তু এগুলো কেউ মুখ ফুটে বলতে পারে না।
নারীর প্রতি সহিংসতা যেমন নিন্দনীয়, তেমনি পুরুষের প্রতি সহিংসতা বা মিথ্যা অভিযোগও সমানভাবে অন্যায় হিসেবে পরিগণিত। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এসব ঘটনার কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ পায় না, কারণ বেশিরভাগ পুরুষ ভয়ে, লজ্জায় বা সামাজিক চাপে মুখ খুলতে পারে না। অনেকের জীবন নষ্ট হয়ে যায় মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা, ভরণপোষণ মামলা বা সামাজিক হেয়প্রতিপন্নতার কারণে। এখনো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পুরুষ সবচাইতে নারী ঘটিত কারণে বেশি নির্যাতিত। এর বেশিরভাগই আবার মিথ্যা হয়রানি মূলক মামলায়।
একটি সুস্থ সমাজে ন্যায়বিচার কেবল এক লিঙ্গের জন্য হতে পারে না। ন্যায়বিচার হতে হবে মানুষভিত্তিক, লিঙ্গভিত্তিক নয়। নারী যেমন নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য, পুরুষও তেমনি মানবিক সম্মান ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু যে দেশে বিচার কেবল কাগজে-কলমে সে দেশে আর কি প্রত্যাশা করতে পারি?
পুরুষ দিবসের তাৎপর্য এখানেই। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, পুরুষও মানুষ, তারও হৃদয় আছে, তারও বেদনা আছে। সমাজ যদি সত্যিকার অর্থে সমতা চায়, তবে নারী ও পুরুষ উভয়ের অধিকারের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। নারী পুরুষের সমান অধিকারের ফেনা তুলে যারা অহরহ মিছিল মিটিং করছে, তারা কি আদৌ ভেবে দেখেছে, এই সমাজে পুরুষদের অধিকার কতটুকু আছে? বিচারের ক্ষেত্রে নারীদের অভিযোগ সমূহ যতটুকু মূল্যায়ন করা হয় পুরুষদের ক্ষেত্রে কি ততটুকু করা হয়? নারী-পুরুষের সমান অধিকারের নামে পুরুষের অধিকার হরণ করা হচ্ছে।
সময় এসেছে নীরব পুরুষদের কণ্ঠস্বর শোনার, তাদের ন্যায়বিচারের পথ উন্মুক্ত করার। কারণ, যেখানে একপক্ষের কষ্ট উপেক্ষিত থাকে, সেখানে সমতা কখনোই টিকে না। তাই এই পুরুষ দিবসের প্রতিপাদ্য হোক— "নারী-পুরুষ মিলেমিশে
গড়বো এদেশ অহর্নিশে।"