• ঢাকা |

নড়াইলে কুল চাষে দুই বন্ধুর সাফল্য


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

জহুরুল হক মিলু: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দুই বন্ধু আব্দুল্লাহ আল মামুন জিকু এবং রুবায়েত ইসলাম টলিন শখের বশে গত বছর করেছিলেন কুলের বাগান। গত বছর ভাল ফলন ও লাভবান হওয়াতে এবছরও করেছেন কুলের চাষ। লিজ নেওয়া প্রায় ১২০ শতাংশ জমিতে রোপণ করেছেন ৭ শতাধিক কুলের চারা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতের এসব গাছের প্রতিটিতে থোকায় থোকায় কুল ঝুলছে। সুস্বাদু বাহারি রঙের কুল গাছের পরিচর্যা করছেন টলিন ও জিকু। গাছের ডালে ডালে ঝুলছে রঙিন কুল। কুলের ভারে যেন ডাল ভেঙে পড়ছে। এছাড়া গাছ থেকে কুল সংগ্রহ করার দৃশ্য ও চোখে পড়ে।

বাগানটিতে কাশ্মীরি, থাই, বলসুন্দরী ও সিডলেস কুলের এ বাগান দেখতে প্রায় নিয়মিত লোকজন ভীড় করছেন। আলোচিত এ কুলের বাগানটি লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের মাধবাটি গ্রামে। শখের বশে দুই বন্ধু গত বছর কাশ্মীরি কুল, থাই, সিডলেস ও বলসুন্দরী জাতের ৬ শতাধিক চারা সাতক্ষীরা থেকে এনে রোপণ করেন, ভাল ফলন ও লাভজনক হওয়ায় এবছরও একশত চারা বাড়িয়ে তারা কুলের চাষ করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১৪৮ হেক্টর জমিতে কুল চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ৮৩ হেক্টর, লোহাগড়া উপজেলায় ৪০ এবং কালিয়া উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে। যার লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭১৫ মেট্রিকটন। এতে সদর উপজেলায় ৩৯০, লোহাগড়া উপজেলায় ১৯৮ ও কালিয়া উপজেলার ১২৭ মেট্রিকটন উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে।

রুবায়েত ইসলাম টলিন বলেন, বাগানে প্রায় সাতশত গাছ রয়েছে। বাগান করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। বাগান তৈরির শুরু থেকে আমি নিজে ও আমার বন্ধু জিকুকে নিয়ে বাগান পরিচর্যার কাজ করে যাচ্ছি। গাছের যত্ন নেওয়া এবং সঠিক সময় জৈব ও গোবর সারসহ কিছু রাসায়নিক সারও গাছের গোড়ায় দূরত্ব বজায় রেখে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো বাগান থেকে বরই সংগ্রহ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে প্রায় দেড়লাখ টাকার বিক্রি হয়েছে। এখনো প্রায় চার লাখ টাকার বিক্রি হবে বলে আশা করছি। এতে করে আমাদের সব খরচ বাদ দিয়ে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ থাকবে বলে আশা করছি।

আব্দুল্লাহ আল মামুন জিকু বলেন, কাশ্মীরি জাতের আপেল কুল খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারজুড়ে চাহিদা ব্যাপক থাকায় জমি থেকে পাইকারী ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাগান দেখতে আসা রাজু শেখ বলেন, কুল বাগানটি অনেক সুন্দর, এখানকার বরই অনেক মিষ্টি। প্রথম যখন কুল গাছ এখানে লাগিয়েছে, আমার তখন বিশ্বাস হয়নি এই গাছে কুল ধরবে। কিন্তু এখন এই গাছে অনেক কুল ধরেছে। দেখতে ও খেতে খুব ভালো লাগছে। আমাদের জেলায় এতো বড় কুল বাগান নেই।

স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, এই বাগান দেখে তারা অভিভূত। তাদের জমিতেও এই ধরনের কুল বাগান করবেন বলে জানান। এই কুল বাগানের কথা শুনে দেখতে এসেছেন তারা। আগামী বছর তারাও এখান থেকে কুলের চারা ও পরামর্শ নিয়ে কুলের চাষ করবেন বলে জানান।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের উপ-পরিচালক আরিফুর রহমান জানান, লোহাগড়া উপজেলায় কাশ্মীরি কুলসহ বিভিন্ন জাতের কুলের আবাদ হচ্ছে। আকারে বড় ও সুস্বাদু কাশ্মীরি কুলের বেশ চাহিদা রয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই কুল রোপণ ও চাষের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।