মাগুরা প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৪ মার্চ দুপুর ২.৩০ টার সময় হতদরিদ্রদের মাঝে চাউল বিতরণের সময়, ওজনে কম দেওয়ার ভিডিও নিউজ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে বুনাগাতি ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ ইরুব হাসান জিয়া কর্তৃক দায়েরকৃত মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় জামিন পেয়েছেন মাগুরার দুই সাংবাদিক মোঃ ফারুক আহমেদ ও মোঃ সাহেব আলী।
বুধবার ১ এপ্রিল দুপুর ১২.৩০ টার সময় মাগুরার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শান্তা খানম এর আদালত থেকে তারা এ জামিন পান।
মামলা নং শালিখা জিআর ১৬/২৬, শালিখা থানার মামলা নং ০৬, তারিখ ১৮/৩/২০২৬, ধারা - ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৮৫ বাংলাদেশ দন্ড বিধি পেনাল কোড আইন।
আসামী ১. মোঃ ফারুক আহমেদ, মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও আসামী ২. মোঃ সাহেব আলী, মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি দ্বয়ের বিরুদ্ধে বুনাগাতী ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা শালিখা থানা মামলা নম্বর ০৬ তারিখ ১৮/০৩/২০২৬ যাহার জিআর নম্বর ১৬/২৬ অত্র মামলায় স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আইনজীবী শুনানিতে অংশ গ্রহন করলেন এ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান খান, এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান, এ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল হক কনক, এ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর, এ্যাডভোকেট রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, এ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান, এ্যাডভোকেট জুলিয়া খাতুন যুতি সহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও আসামী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান খান বলেন, ঈদ উপলক্ষে হতদরিদ্রের মাঝে চাউল বিতরণের সময় চাউল কম দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে ছুটে যায় এবং চাউল কম দেওয়ার ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দুই সাংবাদিককে সেখানকার দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রশাসক, ট্যাগ অফিসার, গ্রাম পুলিশ সদস্য ও ইউপি মেম্বার ইরুব হাসান জিয়া সাংবাদিকদের সাথে বাজে আচরণ করে এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলেন এবং ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করে।সাংবাদিকরা তথ্য প্রমাণ সংগ্রহকালে জিয়া মেম্বারসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে, সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলে এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ধাক্কিয়ে বের করে দেন। এই ভিডিও টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তারা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং মামলা থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য ঘটনার পর ১৮ মার্চ উল্টো
দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন, সমাজের কথার মাগুরা জেলা প্রতিনিধি, সাপ্তাহিক সীমান্ত বাণী, বিজনেস মিরর, গণজাগরণ ডেপুটি ব্যুরো চীফ খুলনা বিভাগ ও ক্যাপিটাল নিউজ ব্যুরো চীফ খুলনা বিভাগ মোঃ ফারুক আহমেদ ও দৈনিক গণজাগরণ, বাংলাদেশ প্রবাহ পত্রিকার মাগুরা জেলা প্রতিনিধি মোঃ সাহেব আলী সহ অজ্ঞাত
৪-৫ জন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইরুব হাসান জিয়া মেম্বার বাদি হয়ে শালিখা থানায় ১৮/০৩/২০২৬ তারিখে মামলা করে।
এবিষয়ে মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ ফারুক আহমেদ ও সহ-সভাপতি মোঃ সাহেব আলী জানান, ঐ ইউনিয়ন পরিষদে টিআর বরাদ্দের ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যর সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে আমরা দুজন সাংবাদিক কখন কার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদাদাবী করেছি এবং প্রশাসক অঞ্জনা রাণী ঘোষকে বাস্টার্ড বলে গালাগালিজ করেছি তার প্রমাণ ভিডিও সহ মেম্বার ইরুব হাসান জিয়াকে আদালতে প্রমাণ করাতে হবে। আর ঘটনার সময়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও বনি আমিন কে মোবাইল ফোনে ঘটনা বলা হলে সে কেন সাংবাদিককে চাঁদবাজ বললো এটার প্রমাণ করাতে হবে মহামান্য আদালতে। আর ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন উচ্চ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও পত্রিকার ডকুমেন্টস পাঠানো হয়েছে আমলাদের বিরুদ্ধে।
মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক ও বেসিক নিউজ ২৪ সম্পাদক আকরাম হোসেন ইকরাম বলেন, শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ কিভাবে তদন্ত ছাড়াই দুই জন সাংবাদিক সহ অজ্ঞাত ৪-৫ জন সাংবাদিকদের মামলা এফআইআর করলো ও জিআর মামলা করলো এটারও জবাব চাওয়া হবে পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে।
মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর জয়েন্ট সেক্রেটারি মিজানুর রহমান রেন্টু বলেন, এখন থেকে সব জায়গায় ক্রাইম সংবাদের তথ্য নেওয়া ও প্রকাশ করার জন্য ৪ থেকে ১০ জন সাংবাদিক টিম ধরে যেতে হবে। শুরু থেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে ফেসবুক লাইভ অথবা যার যার অনলাইন ডিজিটাল মিডিয়ায় লাইভ করতে হবে। আর বুনাগাতি ইউনিয়ন পরিষদের চাউল বিতরণ ঘটনার পুরো ভিডিও ফুটেজ কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করার কথা জানান।
মাগুরা সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি মিরাজ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বলেন, মেম্বার ইরুব হাসান জিয়া সহ দায়িত্বরত আমলারা নিজেদের বাঁচানোর জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ট্যাগ লাগিয়ে মামলা দায়ের করেছে।
এছাড়াও মাগুরা সাংবাদিক সমাজের ব্যানারের বিভিন্ন মিডিয়া ও সংগঠনের সাংবাদিকরা এই মামলার ব্যাপারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।