• ঢাকা |

জমির দাম পরিশোধ না করেই বদলি হলেন শালিখার সাবেক ইউএনও


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১০ মে, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

মাগুরা জেলা প্রতিনিধি: শালিখার দরিখাটর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণে ব্যবহৃত জমির দাম পরিশোধ না করেই বদলি হয়ে গেছেন উপজেলার সাবেক ইউএনও বনি আমিন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১০ মাস আগে স্কুলে যাওয়ার রাস্তা তৈরির জন্য গ্রামের বিপ্লব হোসেন ও তার মৃত ভাইয়ের মালিকানাধীন ৬-৭ শতক জমি ব্যবহার করা হয়। তৎকালীন ইউএনও বনি আমিন, সহকারী শিক্ষা অফিসারসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমির ওপর রাস্তা নির্মাণ করেন। বর্তমানে রাস্তাটিতে ইট বসানো হয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত বিপ্লব হোসেন জানান, প্রথমে তিনি বাধা দিলে জমির দাম নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি শতক প্রতি দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। স্থানীয় সোহেলসহ কয়েকজনের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত শতক প্রতি ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা হয়। কিন্তু ১০ মাস পার হলেও তিনি এক টাকাও পাননি। এর মধ্যেই ইউএনও বনি আমিন বদলি হয়ে গেছেন। 

বিপ্লব ও তার বৃদ্ধ মা বলেন, “জবরদখল করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। বাধা দিয়েও কাজ হয়নি। দেড় লাখ টাকা দরে এক টাকাও আজ পর্যন্ত পাইনি।” 

বিপ্লব আরও বলেন, “আমার ছোট ভাই দুটি এতিম বাচ্চা রেখে মারা গেছে। তারা খুব কষ্টে আছে, খেয়ে না খেয়ে থাকে। অথচ আমাদের পাওনা লাখ লাখ টাকার কোনো ফয়সালা না করেই ইউএনও চলে গেলেন। টাকা না পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।” 

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার রুমিন ফারহানা ও শিক্ষক অঞ্জন হোসেন বলেন, “জমির জন্য এখনও কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। তবে ৯৫ হাজার টাকা কালেকশন করে আড়পাড়া কৃষি ব্যাংকে ইউএনও এবং টিও’র যৌথ অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। দ্রুত টাকার ফয়সালা করার চেষ্টা চলছে।” 

এ বিষয়ে সাবেক ইউএনও বনি আমিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

স্থানীয়রা দ্রুত জমির মালিকদের পাওনা পরিশোধ ও বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।