• ঢাকা |

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ: শান্তিপূর্ণ আয়োজনের আশ্বাস চায় ১১ দল


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

এমএম রহমাতুল্লাহ: আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এ লক্ষ্যে সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লংমার্চের কর্মসূচি, নির্ধারিত সড়ক এবং পথসভাগুলোর স্থান সম্পর্কে অবহিত করেছেন জোটটির নেতারা।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জনগণের বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সার ও বিদ্যুৎ সংকট এবং গ্যাসসংকটসহ বিভিন্ন গণদাবি কর্মসূচিটির অন্যতম বিষয়।
তিনি বলেন, সারা দেশে চারটি রুটে লংমার্চকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বৈঠকে চারটি রুট, সংশ্লিষ্ট পথসভাগুলোর স্থান এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
জোট নেতাদের দাবি, বৈঠকে পুলিশ প্রশাসন তাদের বক্তব্য খোলামেলাভাবে শুনেছে এবং লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ফলে কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “আমরা জনগণের সঙ্গে আছি।” তাঁর বক্তব্যে লংমার্চকে জনগণের বিভিন্ন দাবি আদায়ের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী এবং এলডিপির মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈমসহ অন্য নেতারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। চারটি রুটে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে জোটটি বলছে, জনসম্পৃক্ততা বজায় রেখেই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে তারা আগ্রহী।
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকায় সড়ক চলাচল, জনদুর্ভোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণেই কর্মসূচির আগেই পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে রুট ও পথসভাস্থল সম্পর্কে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জোট নেতারা।
বৈঠক শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই আইজিপির সঙ্গে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে এখন মূল নজর থাকবে নির্ধারিত চারটি রুটে লংমার্চের বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল কতটা নির্বিঘ্ন রাখা যায়—সেদিকে।