মোঃ মিজানুর রহমান: নীল-সাদা আকাশ, ভোরের আবছা কুয়াশা, শ্বেতশুভ্র কাশফুলের দোলা, বাতাসে শিউলি ফুলের ঘ্রাণ- প্রকৃতির এ শোভনীয় রূপের মোহনীয় সজ্জায় ধ্বনিত শরতের আগমনী বার্তা।
সঙ্গে নিয়ে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এ রকম স্লোগান সামনে রেখে এদেশে সর্বদা ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে।
জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবের আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
এবারেও শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে যথারীতি এ ধারারই প্রতিফলন ঘটেছে।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনীর বার্তা, শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ তিথিতে দেবীর আগমন,আর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সে উৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে।
অশুভ শক্তিকে বধ করে বিশ্ববাসীকে অভয় আর শান্তির বার্তা দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা ফিরে যাবেন।
আবহমানকাল ধরে হিন্দু সম্প্রদায় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা ধর্মীয় মাঙ্গলিক আচার অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা করে আসছে।
এই পূজা উপলক্ষে জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে শারদীয় দূর্গা পূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, সমাজসেবী ও বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোটের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অনুপম হালদার।
এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি বলেন, দূর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবাই যেন এ আনন্দ সমানভাগে ভাগাভাগি করে এই প্রত্যাশা আমার।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি বছর এ শরৎকালে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোক অর্থাৎ এ পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী দুর্গার।
বলা হয়, অশুভ শক্তির প্রতীক অসুরদের দলপতি মহিষাসুরকে বধের মধ্য দিয়ে দেবকুলকে রক্ষা করে দেবী দুর্গা নিশ্চিত করেছিলেন অন্যায় ও অশুভ শক্তির পরাজয় এবং ন্যায় ও শুভশক্তির জয়।
ফলে দেবী দুর্গা শুধু সৌন্দর্য-মমতা-সৃজনের আধার হিসেবে বিবেচিত না হয়ে অসহায় ও নিপীড়িতের আশ্রয় হিসেবেও বিবেচিত, যিনি মানবসমাজের জন্য বয়ে এনেছেন মঙ্গলময় বার্তা। আবার মর্ত্যলোকে এসে দেবী দুর্গা কর্তৃত্ববাদ দূর করেছেন; অশুভ শক্তির বিনাশ করেছেন।
নারী ক্ষমতায়নের বড় এক প্রতীক তিনি।
অসুর বিনাশে দেবী দুর্গার সাহস নারীমুক্তি ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য লড়াকু নারীদের অনুপ্রেরণা।
তিনি শুভেচ্ছা বাণীতে আরো বলেন, বিশ্বময় সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে স্থায়ী হোক সম্প্রীতির বন্ধন।
পৃথিবীর সর্বত্র সম্প্রীতির অমিয় ধারা বহমান থাকুক।