ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে মোবারক হোসাইনের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ তৌহিদ বিন-হাসান এবং পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক জনাব মোঃ মোবারক হোসাইন।
সাক্ষাৎকালে লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবু সাদিক, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আলী মহসিন, সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, মুফতি আমির হামজা, মোঃ আফজাল হোসেন, মোঃ রুহুল আমিন ও মোঃ মাসুদ পারভেজ এবং জেলা সেক্রেটারি এনামুল হকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে মোঃ মোবারক হোসাইন বলেন, ১১ দল যে সাত দফা দাবি নিয়ে লংমার্চ শুরু করেছে, এটি কেবল ১১ দলের দাবি নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের দাবি। বিরোধীদলের সকল আন্দোলন-কর্মসূচি জনগণের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলান। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক বিষয় নয়; বরং সরকার, বিরোধী দল এবং সর্বোপরি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত লংমার্চ কর্মসূচিগুলোতে সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, জনগণ তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের বিষয়ে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চেও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোবারক হোসাইন বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এসব বিষয়ে জনমতের প্রতিফলন ঘটানো এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানানো সরকারের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, লংমার্চের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট মহলের সামনে তুলে ধরা এবং দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা। এ কর্মসূচিকে সফল করতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল উপায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে আয়োজকরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনসাধারণের চলাচল, নিরাপত্তা ও সার্বিক শৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।