• ঢাকা |

‘জুলাই স্পিরিট’ আর বিলুপ্ত হবে না: জাককানইবি উপাচার্য


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

আসাদুল্লাহ আল গালিব, জাককানইবি প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই স্মরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৭ জুলাই (বুধবার) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স কক্ষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। দিনব্যাপী এ আলোচনা সভা বিকেলে সমাপ্ত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জুলাই উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, সিন্ডিকেট সদস্য এম জাকির হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য দেন আলোচনা সভা আয়োজক কমিটির সদস্য-সচিব ও লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. অলি উল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট ও ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রায়হানা আক্তার, বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. তারানা নুপুর, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে ও কাজ করতে পারছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত রাখতে আমরা নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যারা জুলাই আন্দোলনে বাধা দিয়েছে কিংবা নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের বিচার শুরু হয়েছে। তথ্যপ্রমাণ পেলে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর গত ৫৫ বছরে এমন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আর দেখা যায়নি। এই 'জুলাই স্পিরিট' আর কখনো নিঃশেষ হবে না। কেউ অন্যায় করে চিরকাল টিকে থাকতে পারে না।”
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “৫ আগস্ট ভোরে কারফিউ ভেঙে, বৃষ্টিতে ভিজে শহিদ মিনার ও রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে আমরা আন্দোলনে অংশ নিই—সেই মুহূর্ত আজও আমার স্মৃতিতে জাগ্রত।”

ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “বর্তমানে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচন সম্ভব হচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে একটি কমিটি কাজ করছে। আমরা সমাধানের পথ খুঁজছি।”

আলোচনা সভায় আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন এবং আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, ‘জুলাই’ শুধু একটি সময় নয় এটি একটি মূল্যবোধ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি।